রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতের উদ্দেশে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১০ মে’র মধ্যেই এই সফর অনুষ্ঠিত হতে পারে। সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকে সম্ভাব্য সফরসূচি এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
কূটনৈতিক মহলের ধারণা, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিতে নয়াদিল্লি এই সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সফরকালে উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা এবং বিশেষ আতিথেয়তার প্রস্তুতিও নিচ্ছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, সফরে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ঢাকা–দিল্লি সম্পর্ক কিছুটা শীতল হয়ে পড়ার পর এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্ক পুনরায় জোরদারের সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আঞ্চলিক রাজনৈতিক সমীকরণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, প্রায় ২০০ কোটি ডলারের সম্ভাব্য সহায়তা প্যাকেজ, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন এবং জ্বালানি সহযোগিতা—বিশেষ করে সেচের জন্য ডিজেল সরবরাহ—এই সফরে আলোচনার তালিকায় থাকতে পারে।
এর আগে নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ভারতের বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক বৈঠক করেছেন, যা আসন্ন সফরের কূটনৈতিক প্রস্তুতিকে আরও এগিয়ে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সফরে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ আরও কয়েকজন মন্ত্রী ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধি অংশ নিতে পারেন বলেও সূত্রে জানা গেছে।
এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সফর দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে পারে।
কালের সমাজ/কে.পি

