ঢাকা শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২

নিয়ম ভেঙে সম্মানী নিচ্ছে শাহ মখদুম কলেজের গভর্নিং বডি

জেলা প্রতিনিধি, রাজশাহী | এপ্রিল ৯, ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম নিয়ম ভেঙে সম্মানী নিচ্ছে শাহ মখদুম কলেজের গভর্নিং বডি

এক বছর থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রজ্ঞাপন লঙ্ঘন করছে রাজশাহী শাহ মখদুম কলেজ কর্তৃপক্ষ। জাবি কর্তৃপক্ষ তাদের অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজসমূহের পরিচালনা পর্ষদের (গভর্নিং বাডি) সদস্যদের সম্মানী বা আর্থিক সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিরত থাকার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। তবে সে নির্দেশনা লঙ্ঘন করে সংশ্লিষ্ট কলেজটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা সম্মানি গ্রহণ করছেন।

এক্ষেত্রে শুধু জাবি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অমান্য নয়, আগের নির্ধারিত সম্মানি আরও বাড়ানো হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এবং সদস্যরা আরও বেশি আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করছেন। আর এর মাধ্যমে কলেজ ফান্ডের টাকা তছরুপ করা হচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বলছেন, তিনি জাবি’র প্রজ্ঞাপন সম্পর্কে অবগত নন। আর অধ্যক্ষ্যের বক্তব্য, অচিরেই এ সম্মানি প্রদান বন্ধ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১১ মার্চ জাবি’র উপাচার্যের নির্দেশে কলেজ পরিদর্শক মো. আব্দুল হাই সিদ্দিক সরকার স্বাক্ষরিত কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সম্মানী বা আর্থিক সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিসহ সকল সদস্যের পদ সম্মানীয় অবৈতনিক।

এতে আরও বলা হয়, সভাপতিসহ সদস্যদের এটি সেবামূলক কাজ। এ সেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা বাবদ সম্মানী বা কোনো প্রকার আর্থিক সুবিধা গ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য বলা হলো। এর ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হলে জাবি কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন।

এদিকে জাবি কর্তৃপক্ষ এ ধরনের নির্দেশনা দিলেও গত বছরের ১১ আগস্ট কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভায় সম্মানী বৃদ্ধির প্রস্তাব উত্থাপন করেন কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক রনজিৎ কুমার দাস। তিনি সভাপতির সম্মানী তিন হাজার থেকে বাড়িয়ে পাঁচ হাজার টাকার প্রস্তাব করেন। আর সদস্যদের জন্য প্রস্তাব করেন দুই হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকা। শিক্ষক প্রতিনিধি রনজিৎ কুমার দাসের এ প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।

জাবি এবং কলেজ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাবি অধিভুক্ত ডিগ্রি কলেজ পরিচালনার জন্য সভাপতিসহ ১৫ সদস্যের একটি পরিচালনা পর্ষদ থাকবে। তবে শাহ মখদুম কলেজে বর্তমানে ১৩ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ রয়েছে। দাতা সদস্য এবং প্রতিষ্ঠাতা প্রতিনিধি সদস্য পরিচালনা পর্ষদে নেই। জাবি’র প্রজ্ঞাপন জারির পর শুধুমাত্র গত বছরেই পরিচালনা পর্ষদের তিনটি সভা হয়েছে। সর্বশেষ সভা হয়েছে চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি।

এ ব্যাপারে শিক্ষক প্রতিনিধি রনজিৎ কুমার দাস বলেন, পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিসহ সদস্যরা সম্মানী গ্রহণ করছেন কি না, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। এ ব্যাপারে আমি কথা বলব না। অধ্যক্ষ কিংবা সভপাতির সাথে এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য তিনি প্রতিবেদককে পরামর্শ দেন।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের বেশ কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, প্রতিটি সভায় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিসহ ১৩ সদস্যের জন্য সম্মানী বাবদ কলেজ ৪১ হাজার করে টাকা গুনতে বাধ্য হচ্ছে। আর এ টাকা কলেজের ফান্ড থেকে দেওয়া হয়। ফলে কলেজের দাফতরিকসহ বিভিন্ন জরুরি কর্মকাণ্ডে আর্থিক সংকট তৈরি হচ্ছে। জাবি’র সুনির্দিষ্ট প্রজ্ঞাপন বা নীতিমালা লঙ্ঘন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মত একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ অত্যন্ত অনৈতিক এবং নিন্দনীয়। সবকিছু জানার পরেও কলেজের ফান্ড তছরুপ করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সচিব কলেজের অধ্যক্ষ এসএম রেজাউল ইসলাম বলেন, জাবির এ প্রজ্ঞাপনটি সাংঘর্ষিক। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সরকারি বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হয়। আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাকাডেমিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। তারপরেও এ সম্মানি গ্রহণ করা যায় কি না, সেটি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা (মাউশি) অধিদফতরের কাছে জানতে চাইব।

তিনি বলেন, সম্মানির টাকা কলেজের বিবিধ ফান্ড থেকে দেওয়া হয়। আমি প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে ব্যয় সংকোচন করতে চাই। তবে সম্মানি সবাই চাইলে, আমি এককভাবে সেটি বন্ধ করতে পারি না। আগামি সভায় বিষয়টি উত্থাপন করব। আমি এ বিষয়ে সবাইকে বলেছি। এ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সম্মানি বা আর্থিক সুবিধা গ্রহণ সম্পর্কে জাবি’র প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে জানা নেই দাবি করে কলেজ পারিচালনা পর্ষদের সভাপতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. খালিদ আলম বলেন, অধ্যক্ষ মহোদয় বিষয়টি সম্পর্কে আমাকে অবগত করেননি। যদি প্রজ্ঞাপন থাকে, তাহলে সম্মানী নেওয়া বা বৃদ্ধি বন্ধ করতে হবে। বিষয়টি না জানার কারণে আমরা সম্মানী গ্রহণ করেছি।

 

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!