ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কাওয়াখোলা স্কুল সংলগ্ন সড়কে ১৫০০ মিটার কার্পেটিং কাজকে কেন্দ্র করে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার ও যথাযথ প্রক্রিয়া না মেনে কাজ করায় সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় কাওয়াখোলা স্কুল হতে ২৬২৭-৪১২৭ চেইনইজ পর্যন্ত ১৫০০ মিটার সড়ক কার্পেটিংয়ের জন্য চুক্তি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার টাকা (বি আর আর আইপি)। প্রকল্পটির নকশাকার ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন এলজিইডির কর্মকর্তা নওসাদ হাসান ফরিদী। কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ আলী।
প্রকল্প অনুযায়ী সড়কে ৬ ইঞ্চি বালু, ৬ ইঞ্চি সাব-বেস (এস), ৬ ইঞ্চি মেকাডাম ও ২৫ মিলিমিটার কার্পেটিং করার কথা রয়েছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে তা সরাসরি সড়কের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে একদিকে নদীর তলদেশে গভীর খননের কারণে পরিবেশগত ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে কাদামিশ্রিত বালু ব্যবহার করায় সড়কের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এছাড়া, রাস্তায় পুরোনো ও ময়লাযুক্ত খোয়া ব্যবহার, ঠিকমতো রোলার দিয়ে চাপ না দেওয়া এবং তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার প্রবণতার কথাও জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
কাজের তদারকি কর্মকর্তা এসও নওসাদ হাসান ফরিদী বলেন, “ফরিদপুরের ঠিকাদার মোহাম্মদ আলী কাজটি করছেন। রাস্তায় ড্রেজার দিয়ে বালু ভরাট করা হলে রাস্তা আরও মজবুত হবে এবং পুরোনো ইটও ব্যবহার করা সম্ভব।”
অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আলী বলেন, “রাস্তায় কী ধরনের কাজ হবে, তা সাব-কন্ট্রাক্টরই ভালো জানেন। আমি বর্তমানে ঢাকায় কাজে আছি।”
এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে কাজের মান নিশ্চিত করা না হলে অল্পদিনের মধ্যেই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কালের সমাজ/কে.পি

