ঢাকা বুধবার, ০৩ জুন, ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের প্রতিশ্রুতিতে শ্রমিকদের আন্দোলন সাময়িক স্থগিত

জেলা প্রতিনিধি,খুলনা | মে ২৪, ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের প্রতিশ্রুতিতে  শ্রমিকদের আন্দোলন সাময়িক স্থগিত

কাঁচা পাট রপ্তানির উপর থেকে অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার,কাজ বন্ধ থাকাকালীন শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে খুলনার বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। দৌলতপুর জুট প্রেস এন্ড বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের উদ্যোগে রবিবার (২৪ মে) সকাল সাড়ে দশটা থেকে খুলনার দৌলতপুর বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশন (বিজেএ) অফিসের সামনে খুলনা-যশোর মহাসড়কে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে শ্রমিকেরা।

শ্রমিক নেতারা জানান,কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ থাকায় খুলনা, নারয়ণগঞ্জ, বৃহত্তর ফরিদপুর, উত্তরবঙ্গসহ সারাদেশের প্রায় ছোট বড় ৪০ টি জুট প্রেস হাউস বন্ধ থাকায় সেখানে কর্মরত প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক প্রায় ৯ মাস যাবৎ কর্মহীন হয়ে পড়ায় শ্রমিকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা রপ্তানি চালু করার দাবিতে বিজেএ অফিসে ভাংচুর চালায় এবং খুলনা যশোর মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। শ্রমিকদের কর্মসূচী অব্যাহত রয়েছে এবং শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।

যে কোন সময় পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটতে পারে বলে আমরা আশংকা রয়েছে। কর্মহীন শ্রমিকরা হুঁসিয়ার করে দিয়ে বলেন,যদি আমাদের দাবী মানা না হয় তা হলে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসুচী ঘোষনা করা হবে। একই দিন বেলা সাড়ে ১২ টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু শ্রমিকদের আশ্বস্ত করে বলেন,নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সকল বন্ধকৃত কলকারখানা চালু করবেন।

বর্তমান বিএনপি সরকার শ্রমিক বান্ধব সরকার। শ্রমিক নেতারা কেসিসি প্রশাসকের আশ্বাসের ভিত্তিতে ২ জুন পর্যন্ত তাদের আন্দোলন সংগ্রামসহ সকল কর্মসুচী  সাময়িক স্থগিত করেছেন। আগামী ২ জুন  প্রধানমন্ত্রী পাট মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকল জুট মিল,পাট রপ্তানীকারক ও পাট ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় করবেন। সকলকে চিঠির মাধ্যমে দাওয়াত দেয়া হবে এবং শ্রমিকদের যে দাবি রয়েছে বাস্তবায়ন করবে বলে শ্রমিকদের আশ্বস্ত করেছেন।

ব্যবসায়ী সুত্রে জানা যায়,কাঁচাপাট রপ্তানি করে প্রায় লক্ষ কোটি টাকার শতভাগ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বিগত অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থে বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশন (বিজেএ)‍‍`র সাথে কোনরূপ আলোচনা ছাড়াই বেসরকারী জুটমিলগুলোকে এককভাবে পাটের বাজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ করে দেয়ার উদ্দেশ্যে ৮ সেপ্টেম্বর-২৫ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানী-১ অধিশাখার প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রপ্তানি নীতি ২০২৪-২০২৭ এর পরিশিষ্ট-২ এ কাঁচা পাটকে শর্তযুক্ত রপ্তানি পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ করে দেয়া হয়।

পাট অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে দেশে পাট উৎপাদনের পরিমান ছিল প্রায় ৭৪.৯৮ লক্ষ বেল এবং বছর শেষে দেশে ৩.৫২ লক্ষ বেল কাঁচা পাট উদ্ধৃত্ত থেকে যায়। বর্তমান ২০২৫-২৬ মৌসুমে দেশে পাটের উৎপাদন ৮৩.১৫ লক্ষ বেল এবং বিগত বছরের উদ্ধৃত্তসহ সর্বমোট ৮৬.৬৭ লক্ষ বেল কাঁচা পাট রয়েছে। উল্লেখ্য, দেশের পাটকল গুলোতে বছরে প্রায় ৩৫-৪০ লক্ষ বেল কাঁচা পাট এবং দেশের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনে প্রায় ৫ লক্ষ বেলসহ প্রায় ৪৫ লক্ষ বেল কাঁচা পাটের চাহিদা রয়েছে। পাট অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের মার্চ/২৬ পর্যন্ত দেশে ২০.৪০ লক্ষ বেল কাঁচা পাট মজুদ রয়েছে। বিজেএ’র চেয়ারম্যান খন্দকার আলমগীর কবির বলেন, বর্ণিত শর্তের কারণে বছর শেষে প্রায় ১৫-২০ লক্ষ বেল কাঁচা পাট উদ্ধৃত্ত থাকে।

দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমান কাঁচা পাট উদ্বৃত্ত থাকার পরও নির্দিষ্ট একটি পক্ষকে সুবিধা দেয়ার জন্য দেশের ক্ষতি করে হটকারীভাবে কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ার কোন যুক্তিসঙ্গত কারন থাকতে পারে না। অন্যান্য সকল রপ্তানিখাতসমূহ রপ্তানির বিপরীতে প্রনোদনা পেলেও আমরা কাঁচা পাট রপ্তানিকারকগন কখনোই কোন প্রনোদনা পাইনা এবং আমরা ব্যাংক ঋণের উপর সর্বোচ্চ হারে সুদ প্রদান করে থাকি।

দেশের জুটমিলগুলোর চাহিদাসহ অভ্যন্তরীণ কাঁচা পাটের সকল চাহিদা মেটানোর পর দেশে উদ্বৃত্ত থাকা কাঁচা পাট হতে আমরা মাত্র ৮ থেকে ১০ লক্ষ বেল কাঁচা পাট বিদেশে রপ্তানি করে থাকি এবং দেশের জন্য প্রতি বছর ২হাজার কোটি টাকার শতভাগ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখি।

সুত্রে জানা যায়,চলতি মৌসুমে কৃষক পাটের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার কারণে দেশে প্রায় দেড়গুন পাটের আবাদ বেশী হয়েছে। তাছাড়া এ বছর আগাম বৃষ্টিপাতের কারণে সামনের মৌসুমে দেশে পাটের বাম্পার ফলন হবে। কাঁচা পাট রপ্তানি চালু করা না হলে বর্তমান বছরের উদ্বৃত্ত পাটের সাথে সামনের মৌসুমের উৎপাদিত বিপুল পরিমান কাঁচা পাট তখন ব্যবহারের কোন জায়গাই আর থাকবে না।

যার ফলে পাটের বাজারে ধ্বস নেমে কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং পরবর্তীতে কৃষক পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। বর্তমানে জুট মিল মালিকেরা এককভাবে পাটের বাজার নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ কাজে লাগিয়ে জুট মিলে পাট সরবরাহকারী ব্যবসায়ীদেরকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। ফলে কৃষক ন্যায্য মূল্য হতে বঞ্চিত হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, আকিজ জুট মিল কর্তৃক তাদের মিলের পাট সরবরাহকারী ব্যবসায়ীদেরকে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে পাটের মূল্য অনেক কম প্রদান করার কারণে পাট ব্যবসায়ীরা এবং কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যার কারণে ২ মে-২৬ শতাধিক পাট ব্যবসায়ী সেখানে অবস্থান কর্মসূচী পালন করে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

 

কালের সমাজ/কে.পি

 

 

Link copied!