ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

ডাবের পানিতে চেতনানাশক মিশিয়ে অটোচালককে অজ্ঞান, আন্তঃজেলা প্রতারক চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

কালের সমাজ ডেস্ক | জুলাই ১৪, ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম ডাবের পানিতে চেতনানাশক মিশিয়ে অটোচালককে অজ্ঞান, আন্তঃজেলা প্রতারক চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

ডাবের পানিতে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে অটোচালককে অজ্ঞান করে অটোরিকশা ছিনতাইসহ বিভিন্ন কৌশলে সাধারণ মানুষের অর্থ-সম্পদ হাতিয়ে নেওয়া আন্তঃজেলা প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে নওগাঁ জেলা পুলিশ। এ সময় ছিনতাই হওয়া একটি অটোরিকশা উদ্ধার, একটি মোটরসাইকেল, ৮টি মোবাইল ফোন, নগদ ১১ হাজার ৪৩০ টাকা এবং ১০টি রিভোট্রিল (Rivotril) ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এক ব্যক্তি নওগাঁ সদর হাসপাতাল যাওয়ার কথা বলে একজন অটোরিকশাচালকের গাড়ি ভাড়া নেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর আরও দুই ব্যক্তি নিজেদের নবজাতক সন্তানের জন্ম হয়েছে বলে পরিচয় দিয়ে চালকের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে তারা চালককে একটি ডাব খেতে দেন। পরে জানা যায়, ওই ডাবের পানিতে আগে থেকেই চেতনানাশক ওষুধ মেশানো ছিল। ডাবের পানি পান করার কিছুক্ষণ পর চালক অজ্ঞান হয়ে পড়লে প্রতারকরা অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনার বিষয়টি জানতে পেরে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে নওগাঁ সদর থানাকে মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এরপর সিসিটিভি ফুটেজ, অপরাধীদের ডাটাবেজ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে নওগাঁ সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার যৌথ দল বগুড়া ও গাইবান্ধা জেলায় টানা ১৮ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে গত ১২ জুলাই চারজনকে গ্রেফতার করে। পরদিন তাদের নওগাঁতে আনা হয়। একই সঙ্গে গাইবান্ধা থেকে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার লোহাইমুড়ি গ্রামের ইব্রাহীম ওরফে ইমন (৩৪), বরগুনা সদর উপজেলার খেজুরতলা গ্রামের হুমায়ুন কবির (৫০), বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার ফুলদিঘি পূর্বপাড়া গ্রামের খাজা মিয়া (৫৬) এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার জিরাই গ্রামের আব্দুল গফুর (৪১)।

অভিযানকালে ইব্রাহীমের কাছ থেকে অটোরিকশা বিক্রির ১ হাজার ৪৩০ টাকা, চারটি মোবাইল ফোন এবং ১০টি রিভোট্রিল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। হুমায়ুনের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা, দুটি মোবাইল ফোন ও একটি পালসার মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। আব্দুল গফুরের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয় এবং খাজা মিয়ার কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

ডিবি পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। ইব্রাহীম ও হুমায়ুনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা ডাবের পানিতে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে এবং নানা প্রতারণার কৌশল অবলম্বন করে মানুষের অর্থ-সম্পদ হাতিয়ে আসছিল।

পুলিশের দাবি, খাজা মিয়া ও আব্দুল গফুর সম্পর্কে শালা-দুলাভাই। তারা প্রতারক চক্রের কাছ থেকে ছিনতাই করা অটোরিকশাসহ বিভিন্ন সম্পদ ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত। গ্রেফতার চারজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!