ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

২.৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্সনিয়েব্র্যাক ব্যাংক এখন দেশের তৃতীয় বৃহত্তম রেমিট্যান্স ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক | জুলাই ১৪, ২০২৬, ০৮:০২ পিএম ২.৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্সনিয়েব্র্যাক ব্যাংক এখন দেশের তৃতীয় বৃহত্তম রেমিট্যান্স ব্যাংক

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২.৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈদেশিক রেমিট্যান্স আনার মাধ্যমে ব্র্যাক ব্যাংক এখন বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম রেমিট্যান্স ব্যাংক।সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি তথ্যে এই বিষয়টি উঠে এসেছে।
এই অর্জন প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে ব্র্যাক ব্যাংকের নিরাপদ, দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর রেমিট্যান্স সেবার প্রতি ক্রমবর্ধমান আস্থার প্রতিফলন। একই সঙ্গে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ বৃদ্ধিতে ব্যাংকটির অবদানও এ অর্জনের মাধ্যমে আরও সুস্পষ্ট হয়েছে।
এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ব্যাংকটির ডিজিটাল উদ্ভাবনে কৌশলগত বিনিয়োগ, রেমিট্যান্স করিডোর সম্প্রসারণ, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব এবং নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশিদের (এনআরবি) জন্য বিশেষায়িত ব্যাংকিং সেবার মতো উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলো। এছাড়াও উন্নত হোস্ট-টু-হোস্ট প্রযুক্তির সাথে সংযোগের ফলে প্রধান রেমিট্যান্স-উৎস দেশগুলো থেকে অর্থ প্রেরণে গতি, নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন ব্যাংকিং প্রয়োজনের কথা বিবেচনায় রেখে ব্র্যাক ব্যাংক গ্রাহকদের দিচ্ছে নিরবচ্ছিন্ন ডিজিটাল ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা। এর মাধ্যমে এনআরবিরা বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ব্যাংক হিসাব খুলতে পারছেন এবং ব্যাংকটির ‘আস্থা’ অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স বেনিফিশিয়ারিরা ব্র্যাক ব্যাংকের দেশব্যাপী ৩১৫টি শাখা ও উপশাখা এবং ১,১১৭টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে দ্রুত ও নিরাপদে রেমিট্যান্স গ্রহণ করতে পারছেন। ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল এই রেমিট্যান্স সেবার আওতা চলে এসেছে।
প্রবাসী বাংলাদেশি ও তাদের পরিবারের বহুমাত্রিক আর্থিক প্রয়োজন পূরণে ব্র্যাক ব্যাংক ‘প্রবাসী ভার্চুয়াল সেভিংস অ্যাকাউন্ট’, ‘প্রবাসী পরিবার অ্যাকাউন্ট’, ‘তারা প্রবাসী পরিবার অ্যাকাউন্ট’ এবং অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট (ওবিইউ) সেবাসহ বিভিন্ন প্রোডাক্ট ও সার্ভিস প্রদান করছে। এসব সেবার মাধ্যমে গ্রাহকরা এখন আরও সহজে সঞ্চয়, বিনিয়োগ ও নিজেদের আর্থিক ব্যবস্থাপনা করতে পারছেন।
এ বিষয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব হোলসেল ব্যাংকিং মো. শাহীন ইকবাল, সিএফএ বলেন, “লাখো প্রবাসী বাংলাদেশি যে ব্র্যাক ব্যাংকের ওপর তাদের আস্থা রেখেছেন— এই মাইলফলক তারই প্রমাণ।বর্তমানে রেমিট্যান্স গ্রাহকরা শুধু মানি ট্রান্সফার সেবাই নয়, বরং অর্থ প্রেরণে গতি, নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও সুবিধাও প্রত্যাশা করেন। ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈশ্বিক রেমিট্যান্স নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং উদ্ভাবনী আর্থিক সল্যুশনের মাধ্যমে দেশে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করতে কাজ করে যাবে ব্র্যাক। এভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেওভূমিকা রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর।”
রেমিট্যান্স বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস, যা লাখো পরিবারের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা করে এবং দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডিজিটাল সক্ষমতার ধারাবাহিক উন্নয়ন এবং বিভিন্ন দেশে রেমিট্যান্স নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে ব্র্যাক ব্যাংক প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে তাদের পরিবার ও দেশের আর্থিক ব্যবস্থার সংযোগ আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নের মাধ্যমে দেশের শীর্ষ রেমিট্যান্স ব্যাংক হওয়ার লক্ষ্যে ব্যাংকটি কাজ করে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

কালের সমাজ/কে.পি

অর্থনীতি বিভাগের আরো খবর

Link copied!