সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো যখন লোকজনের অসচেতনতায় সৌন্দর্য ও স্থায়ীত্ব হারায়, তখন তা সাধারণ মানুষকে গভীরভাবে ব্যথিত করে। মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদরের ব্যস্ততম মধুমতি সেতু, বিনোদপুরের নবগঙ্গা বৃজ এবং সদ্য নির্মিত বড়রিয়া পশ্চিমপাড়াা-মৌশা বৃজসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বৃজে বর্তমানে দেখা যাচ্ছে এমনই এক বিষাদময় চিত্র।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ে নির্মিত ও নতুন রঙে সাজানো দৃষ্টিনন্দন সেতুগুলোর দুই পাশের রেলিংজুড়ে দেদারসে শুকানো হচ্ছে ভেজা পাট ও পাটকাঠি। শুধু রেলিংই নয়, কোথাও কোথাও বৃজের হাঁটার পথ এমনকি মূল সড়কের একাংশ দখল করেও পাট বিছিয়ে শুকানো হচ্ছে।
রোদের তাপ ও ভেজা পাটের রসায়নে সদ্য লেপন করা লাল-সাদা ও হলুদ রঙের চকচকে রূপ চোখের নিমিষেই ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা ও সচেতন মহল মনে করছেন, প্রতিনিয়ত ভেজা পাটের পানি, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ এবং কড়া রোদের প্রভাবে সেতুগুলোর কাঠামোগত স্থায়ীত্ব ও রেলিংয়ের রঙ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। যে সেতুগুলো পথচারীদের মনে প্রশান্তি এনে দিত এবং যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল, তা এখন পাট শুকানোর জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এমন অনিয়ম ও সরকারি সম্পদের প্রতি চরম অবহেলা দেখে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রশ্ন-জাতীয় সম্পদ রক্ষায় জনসাধারণের দায়িত্বশীলতা কতটুকু আর স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারিই বা কোথায়?
বিনোদপুর বৃজের ওপর থেকে কথা হয় মো. খুরশিদ আলম সোহাগ নামের এক মোটরসাইকেল আরোহীর সাথে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকারি সম্পদ এভাবে নষ্ট করা হচ্ছে অথচ কেউ কিছুই বলছেন না। এর প্রতিকার হওয়া জরুরী।’
মধুমতি সেতুর ওপর দিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে মহম্মদপুর থেকে বোয়ালমারী যাচ্ছিলেন মো. ইমামুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরেই দেখছি সেতুর রেলিংয়ের ওপর কৃষকরা পাট ও পাটকাঠি শুকাচ্ছেন। বিষয়টি খুবই দৃষ্টিকটু মনে হয়েছে। কৃষকদেরও সচেতন হওয়া দরকার।’
উন্নয়ন আমাদের জীবনযাত্রাকে সহজ করার জন্য। কিন্তু সেই সরকারি সম্পদকে নিজের ঘরের মতো যত্ন না করলে এর সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তাই অবিলম্বে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সচেতন মহল দাবি জানিয়েছেন, সেতু ও বৃজগুলোতে দ্রুত নজরদারি বাড়িয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া এবং সর্বসাধারণের মাঝে সচেতনতা গড়ে তোলা হোক।
কালের সমাজ/কে.পি

