কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাড়িতে ঢুকে সৌদি আরব প্রবাসী এক ব্যক্তিকে লোহার অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত এবং লাঠি-লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁর বুকের পকেট থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
গত শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার দৌলখাঁড় ইউনিয়নের কান্দাল পশ্চিমপাড়া মোল্লা বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় সৌদি আরব প্রবাসী ছালেহ আহমদ এবং তাঁর বড় ভাই হারুন অর রশিদ জসিম গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনায় হারুন অর রশিদ জসিম বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় সাতজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযুক্তরা হলেন,কান্দাল গ্রামের মৃত মোহাম্মদ মোস্তফা মিয়ার ছেলে মিজানুর রহমান, তাঁর ছেলে শামীম ও সিহাব উদ্দিন, বেলাল হোসেনের ছেলে ইমাম হোসেন রাকিব ও রাসেল আহমেদ, রবিউল হকের স্ত্রী বিলকিছ বেগম এবং মিজানুর রহমানের স্ত্রী ফেরদৌসি বেগম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদী ও অভিযুক্তরা পাশাপাশি বাড়ির বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মধ্যে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে ঘটনার দিন অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের বাড়িতে প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে ছালেহ আহমদের মাথার ডান পাশে লোহার অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। পরে তাঁকে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় হামলাকারীদের কয়েকজন লাঠি ও লোহার রড দিয়ে তাঁর হাত-পা, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন।হামলার একপর্যায়ে ছালেহ আহমদের বুকের পকেটে থাকা ২০ হাজার টাকা নিয়ে যান অভিযুক্তরা। হামলার খবর পেয়ে স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা আহত ছালেহ আহমদকে উদ্ধার করে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত ছালেহ আহমদ ও হারুন অর রশিদ জসিম বলেন, জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তাঁদের বাড়িতে ঢুকে হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় ছালেহ আহমদ গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাঁর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মিজানুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম বলেন, দুই পক্ষই লিখিত অভিযোগ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালের সমাজ/কে.পি

