ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

কুড়িগ্রামে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

জেলা প্রতিনিধি,কুড়িগ্রাম | অক্টোবর ৭, ২০২৬, ১০:২৩ পিএম কুড়িগ্রামে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে কুড়িগ্রামে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


বুধবার সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় জানানো হয়, এ বছর কুড়িগ্রাম জেলার ৯টি উপজেলায় মোট ৫৬৬টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।


সভায় সভাপতিত্ব করেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, "শারদীয় দুর্গাপূজা কেবল একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠান নয়; এটি আমাদের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতির উৎসব। কুড়িগ্রামের চিরাচরিত সৌহার্দ্যপূর্ণ আবহ বজায় রেখে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।"


জেলা প্রশাসক আরও জানান, প্রতিটি মণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতে বিশেষ নজরদারি থাকবে। পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে যৌথ মনিটরিং টিম কাজ করবে। যেকোনো ধরনের গুজব বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।


সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য ও মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি.এম কুদরত-এ-খুদা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিমতানুর রহমান, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আজিজুর রহমান স্বপন, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, এনএসআই-এর উপ-পরিচালক আনিসুর রহমান এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বেনজির হোসেন।


সাংবাদিকদের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি সফি খান, সিনিয়র সাংবাদিক আশরাফুল হক রুবেল ও আরিফুল ইসলাম রিগ্যান এবং আনোয়ার হোসেন।


আলোচকরা বলেন, "ধর্ম যার যার, উৎসব সবার"—এই চেতনায় বিশ্বাস রেখে কুড়িগ্রামের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সর্বস্তরের জনগণ পূজা উদযাপনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন। পূজা মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।


উক্ত প্রস্তুতিমূলক সভায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সনাতন ধর্মের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, পূজা উদযাপন ফ্রন্টের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!