ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের নতুন প্রকল্প অনুমোদন

কালের সমাজ ডেস্ক | অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের নতুন প্রকল্প অনুমোদন

বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার একটি নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বুধবারের একনেক সভায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটিসহ মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে রামপালের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যয় হবে ২ হাজার ৪৯৮ কোটি ৭ লাখ ৯৩ হাজার টাকা।

বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে বিপিডিবির নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৭৪ কোটি ৭১ লাখ ১৯ হাজার টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ও অনুদান থেকে ২ হাজার ১২৩ কোটি ৩৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয় করা হবে।


নতুন জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন নেই

প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, রামপালে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে নতুন করে জমি অধিগ্রহণ করতে হবে না। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ২০১২ সালে রামপালে ১ হাজার ৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল বিপিডিবি।

এরই একাংশে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানির মৈত্রী সুপার থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ব্লক-বি এলাকায় জমি উন্নয়ন ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ওই জমিতেই নতুন সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

থাকবে সৌর প্যানেল ও গ্রিড সংযোগ ব্যবস্থা

প্রকল্পের আওতায় ন্যূনতম ৬৪০ ওয়াট পিক ক্ষমতার সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি মোট ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-টাইড ইনভার্টার ও একটি পুলিং সাবস্টেশন স্থাপন করা হবে।

উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ডাবল সার্কিট ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া উপকেন্দ্রে দুটি ২৩০ কেভি বে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

থাকছে ডরমিটরি, রেস্টহাউস ও নিয়ন্ত্রণ ভবন

প্রকল্পের আওতায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ডরমিটরি, রেস্টহাউস, মসজিদ এবং তিনতলা নিয়ন্ত্রণ ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশীয় পরামর্শক নিয়োগের প্রস্তাবও রয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত হবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কালের সমাজ/কে.পি

অর্থনীতি বিভাগের আরো খবর

Link copied!