ঢাকা শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

ভৈরবে গুরুতর আহত এনজিওর এরিয়া ম্যানেজার

জেলা প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ | ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম ভৈরবে গুরুতর আহত এনজিওর এরিয়া ম্যানেজার

কিস্তির বকেয়া টাকা আদায় করতে গিয়ে টেঁটার আঘাতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পদক্ষেপ-এর এরিয়া ম্যানেজার প্রদীপ চন্দ্র দাস (৩৬) গুরুতর আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী পূর্বকান্দা গ্রামের রুজিনা আক্তার নামে এক গ্রাহকের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তি গ্রাহক রুজিনা আক্তারের স্বামী মো. সেন্টু মিয়া (৪০)।

পদক্ষেপ সংস্কার কর্মীরা জানান, প্রদীপ চন্দ্র দাস কটিয়াদী, বাজিতপুর, কুলিয়ারচর ও ভৈরবসহ চারটি উপজেলার দায়িত্বরত কর্মকর্তা। ভৈরব উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী পূর্বকান্দা গ্রামের গ্রাহক রুজিনা আক্তার প্রদক্ষেপ এর একজন সদস্য। তিনি পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে গ্রাহক সাজিয়ে নিজেসহ ১০ লক্ষ টাকার উপর লোন নেন ওই সংস্থা থেকে। কয়েকটি কিস্তি দেয়ার পর পরবর্তী বাকী কিস্তির টাকা ফেরত দিতে বার বার অনীহা প্রকাশ করেন।

এ ঘটনায় মাঠকর্মীরা একাধিকবার তাঁর বাড়িতে যায়।দুইদিন আগে মাঠকর্মী অঙ্কর কুমার সরকার গ্রাহক রুজিনা আক্তার ও তার পরিবারের কাছে বকেয়া টাকা আদায় করতে গেলে গ্রাহকের স্বামী মো. সেন্টু মিয়া দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদেরকে দৌড়ানি দিয়ে ভয় ভীতি দেখান।

পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জানানো হয়। কিস্তির টাকা আদায় করতে আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে প্রদক্ষেপ সংস্থার সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিং অফিসার প্রদীপ চন্দ্র দাসসহ দুইজন মাঠকর্মী গ্রাহকের বাড়িতে উপস্থিত হয়।

কিস্তির বকেয়া পাওনার বিষয়টি আলোচনার মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হলে এক পর্যায়ে গ্রাহক রুজিনা আক্তারের স্বামী মো. সেন্টু মিয়া দৌড়ে এসে টেঁটা দিয়ে প্রদীপ চন্দ্র দাসের বুকে আঘাত করেন।

হামলায় মুহূর্তেই তাঁর শরীর থেকে রক্তপাত শুরু হয়। সাথে থাকা মাঠকর্মীরা তাৎক্ষণাত স্থানীয়দের সহায়তায় প্রদীপ চন্দ্র দাসকে উদ্ধার করে কুলিয়ারচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি দেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য আহত প্রদীপ চন্দ্র দাসকে কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. স্বস্তিকা হাসিন।

ডা. স্বস্তিকা হাসিন জানান, গুরুত্বর আহত অবস্থায় প্রদীপ চন্দ্র দাস নামে ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর বুকের ডান পাশে আঘাত প্রাপ্ত হয়েছেন।

এ বিষয়ে মাঠকর্মী অঙ্কুর কুমার সরকার জানান, রুজিনা আক্তার তাঁর শ্বাশুরী ও ননদসহ বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে আমাদের এনজিও সংস্থা থেকে বড় অঙ্কের টাকা লোন নিয়েছে। কিন্তু লোন নেয়ার পর ঠিক মতো কিস্তি দিতে পারেনি। কিস্তির টাকা চাইতে গেলে আমাদের মাঠকর্মীদের বিভিন্ন হুমকি ধামকি প্রদর্শন করে। আজকে আমাদের খবর দিয়ে নিয়ে যান কিস্তির টাকা দিবেন বলে। কিন্তুর কিস্তির টাকা না দিয়ে উল্টো আমাদের উপর হামলা করেছেন। আমাদের স্যার গুরুত্বর আহত অবস্থায় বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করছি। আমরা চাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।

অভিযুক্তের স্বজন আব্দুল হাসিম জানান, আমার ভাইরা ভাই প্রায় ৩২ লক্ষ টাকা বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে লোন নিয়েছে। আমি বিভিন্ন এনজিওর সাথে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করছি। আজকে একটি এনজিও কর্মীরা তার বাড়িতে গেলে এনজিও কর্মীকে টেঁটা দিয়ে আঘাত করেছে শুনেছি বিষয়টি দুঃখজনক।

এ বিষয়ে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ জানান, আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। টাকা চাইতে গিয়ে আহত হওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হবে।

Side banner
Link copied!