ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

কারা পাবেন টিসিবির কার্ড, পেতে কী লাগবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক | সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১২:০১ পিএম কারা পাবেন টিসিবির কার্ড, পেতে কী লাগবে?

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) থেকে সাশ্রয়ী দামে কারা পণ্য পাবেন, তা নতুনভাবে ঠিক করে দিয়েছে সরকার। এত দিন নিয়ম ছিল নিম্ন আয়ের মানুষেরা পণ্য কিনতে পারবেন। এখন নিম্ন আয়ের মানুষ কারা হবেন, তা ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, হতদরিদ্র পরিবার, নিম্ন আয়ের ব্যক্তি, ভূমিহীন, কৃষিশ্রমিক, দিনমজুর, চা–শ্রমিক, চাতালশ্রমিক, কারখানার শ্রমিক ও উপার্জনে অক্ষম ব্যক্তিরা টিসিবির কার্ডধারী হবেন।

এ ছাড়া বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, স্বামী পরিত্যক্ত ও অসচ্ছল বয়স্ক নারীপ্রধান পরিবার অগ্রাধিকার পাবে। পাশাপাশি যেসব দুস্থ পরিবারে শিশু বা প্রতিবন্ধী রয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি উপকারভোগী হতে পারবেন না। কার্ড পাওয়ার জন্য উপকারভোগীর জাতীয় পরিচয়পত্র, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্র এবং উপকারভোগীর জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিজের নামে নিবন্ধিত সচল মোবাইল নম্বরের প্রয়োজন হবে।

এসব বিষয় উল্লেখ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আজ মঙ্গলবার ‘সমগ্র বাংলাদেশে টিসিবির উপকারভোগী নির্বাচন এবং ভর্তুকি/সাশ্রয়ীমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা–২০২৬’ জারি করেছে। এতে উপকারভোগী নির্বাচন, কার্ড বিতরণ, ডিলারের পণ্য বিক্রি, হিসাব সংরক্ষণ এবং মাঠপর্যায়ে নজরদারির দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নির্বাচিত উপকারভোগীকে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। আগে বলা ছিল, শুধু স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। নির্বাচিত পরিবারগুলোর তথ্য টিসিবির সেবা অ্যাপের মাধ্যমে তথ্যভান্ডারে সংরক্ষণ করা হবে।

নির্দেশিকায় সিটি করপোরেশন, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আলাদা তদারক কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। এসব কমিটির মাধ্যমে উপকারভোগী নির্বাচন, তথ্যভান্ডার তৈরি, কার্ড বিতরণ ও পণ্য বিক্রির কার্যক্রম তদারক করা হবে।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, টিসিবির কার্ডধারী উপকারভোগী ব্যক্তিদের জন্য প্রতি পরিবারে দুই লিটার ভোজ্যতেল, দুই কেজি মসুর ডাল, এক কেজি চিনি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ সাপেক্ষে পাঁচ কেজি চাল দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, সরকার সময়–সময় পণ্যের সংখ্যা, পরিমাণ ও মূল্য পুনর্নির্ধারণ করতে পারবে। পবিত্র রমজান ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে নির্ধারিত পরিমাণের বাইরে সরকার চাইলে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকসেলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছেও ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রি করতে পারবে।

টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ৭৫ লাখ কার্ডধারী রয়েছেন। সম্প্রতি টিসিবির এক অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, অনিয়মের অভিযোগে ইতিমধ্যে ৫৯ লাখ কার্ড বাতিল করা হয়েছে। এসব কার্ড ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তর করে প্রকৃত সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের দেওয়া হবে।

জেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত নজরদারি: জেলা পর্যায়ের তদারক কমিটিতে জেলা প্রশাসককে সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট জেলার সংসদ সদস্যদের উপদেষ্টা রাখা হয়েছে। কমিটিতে পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পৌরসভার মেয়র বা প্রশাসক, জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক, সমাজসেবা কর্মকর্তা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা ও টিসিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও থাকবেন।

উপজেলা পর্যায়ে সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নিয়ে কমিটি করা হবে। ইউনিয়ন পর্যায়েও দল থাকবে, যাদের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ট্যাগ টিম’। এসব টিম টিসিবির ডিলারের দোকান ও বিক্রয় পয়েন্ট পরিদর্শন করবে এবং পণ্য ঠিকমতো বিক্রি হচ্ছে কি না, তা দেখবে।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ডিলারের দোকানের সামনে টিসিবির পণ্যের ভোক্তা মূল্যতালিকা টানিয়ে রাখতে হবে। পণ্য পাওয়ার তারিখ, সময়, মূল্য, বিতরণ করা পণ্যের সংখ্যা ও পরিমাণ কার্ডধারী ব্যক্তিদের জানাতে হবে।

ডিলারের দোকানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসবে:  নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার জন্য ডিলারকে নিজের দোকানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। জনসমক্ষে পণ্য বিক্রির তথ্য টিসিবির কর্মীদের অবহিত করার ব্যবস্থাও রাখতে হবে। গুদাম থেকে পণ্য নেওয়ার ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম রাখা হয়েছে। অর্থাৎ টিসিবির নিজস্ব বা ভাড়া করা গুদামে মালামাল সংরক্ষণ করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এগুলো পরিদর্শন করবে সরকার।

টিসিবির উপপরিচালক শাহাদত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাত্রা আরও শক্তিশালী হবে নতুন নির্দেশিকায়। চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরে সাশ্রয়ী দামে ২ লাখ টন ভোজ্যতেল, ২ লাখ ২০ হাজার টন মসুর ডাল ও ১ লাখ ১০ হাজার টন চিনি বিক্রি করবে টিসিবি।

বর্তমানে ভোজ্যতেল প্রতি লিটার ১০০ টাকা, মসুর ডাল প্রতি কেজি ৬০ টাকা ও চিনি প্রতি কেজি ৭০ টাকায় বিক্রি করছে টিসিবি। টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, সাশ্রয়ী দামে বিক্রি করায় ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সরকারকে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ভর্তুকি কমে ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা হবে বলে আশা করছে টিসিবি।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!