দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ থালাপতি বিজয়ের সঙ্গে ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানতে আদালতে আবেদন করেছেন তাঁর স্ত্রী সংগীতা স্বর্ণালিঙ্গম। বিচ্ছেদের আবেদনে সংগীতা অভিযোগ করেছেন, বিজয় এক অভিনেত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এই অভিযোগের তির মূলত দক্ষিণি অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানের দিকেই ঘুরে গেছে। এরই মধ্যে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে বিজয় ও তৃষাকে একসঙ্গে দেখা যাওয়ায় নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি চেন্নাইয়ে এক প্রযোজক পরিবারের বিয়ের সংবর্ধনায় উপস্থিত ছিলেন বিজয় ও তৃষা। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে তাঁদের উপস্থিতি অতিথি ও ভক্তদের মধ্যে আলোচনার ঝড় তোলে। অনুষ্ঠানে বিজয়কে দেখা যায় সোনালি রঙের সিল্ক শার্ট ও ভেস্তিতে, আর তৃষা পরেছিলেন সাদা-সোনালি সিল্ক শাড়ি ও লাল ব্লাউজ, সঙ্গে ছিল এমেরাল্ড নেকলেস। অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে পুরোনো গুঞ্জন আবার সামনে আসে।
বিজয় ও তৃষা প্রথম জুটি বাঁধেন ২০০৪ সালের ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র ‘ঘিলি’-তে। এরপর ‘থিরুপাচি’, ‘আথি’ ও ‘কুরুভি’সহ আরও কয়েকটি ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেন তাঁরা। সেই সময় থেকেই তাঁদের বন্ধুত্ব নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। যদিও দুজনই সবসময় বলেছেন, তাঁদের সম্পর্ক শুধুই সহকর্মী ও বন্ধুত্বের।
বছরের পর বছর মাঝেমধ্যে নানা ঘটনার কারণে এই জুটি নিয়ে জল্পনা আবারও সামনে এসেছে। ২০২২ সালে তৃষা নিউইয়র্ক সফরের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করলে একটি ছবিতে দুটি জুতা দেখে ভক্তরা নানা ব্যাখ্যা দিতে শুরু করেন। অনেকেই ধারণা করেন, সেই সফরে নাকি বিজয়ও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তবে এসব দাবি কখনোই প্রমাণিত হয়নি।।
)
২০২৩ সালে লোকেশ কঙ্গরাজ পরিচালিত ‘লিও’ ছবিতে প্রায় ১৪ বছর পর আবার একসঙ্গে পর্দায় ফেরেন বিজয় ও তৃষা। ছবির প্রচারের সময় তৃষা বলেছিলেন, দীর্ঘদিনের পরিচয়ের কারণে বিজয়ের সঙ্গে কাজ করা তাঁর কাছে অনেকটা ‘বাড়িতে ফেরার মতো’ অনুভূতি দেয়।
‘লিও’-এর সাফল্য উদ্যাপন অনুষ্ঠানে বিজয় তৃষাকে ‘প্রিন্সেস’ বলে সম্বোধন করে প্রশংসা করেছিলেন। তিনি বলেন, দুই দশক ধরে একই জনপ্রিয়তা ধরে রাখা সহজ নয় এবং তৃষা সেই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন।
এদিকে আদালতে করা বিবাহবিচ্ছেদের আবেদনে সংগীতা উল্লেখ করেছেন, ২০২১ সালে তিনি জানতে পারেন তাঁর স্বামী অন্য এক অভিনেত্রীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবনে তৃষা ২০১৫ সালে ব্যবসায়ী বরুণ মানিয়ানের সঙ্গে বাগদান করেছিলেন, যা কয়েক মাসের মধ্যেই ভেঙে যায়। পরে অভিনেতা রানা দুগ্গবতির সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে নানা আলোচনা হয়।

তবে দীর্ঘদিন ধরে নানা গুঞ্জন থাকলেও বিজয় বা তৃষা কেউই তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের কথা কখনো প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি। ফলে সাম্প্রতিক এই আলোচনার সত্যতা নিয়েও এখনো স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।
কালের সমাজ/এসআর

