ঢাকা বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩

রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা পাবেন তো মাতিয়া বানু শুকু?

বিনোদন ডেস্ক | এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা পাবেন তো মাতিয়া বানু শুকু?

ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছেন দেশের খ্যাতনামা নির্মাতা, নাট্যকার ও প্রযোজক মাতিয়া বানু শুকু। তার শারীরিক অবস্থাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সহকর্মী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকেই প্রার্থনা ও সহমর্মিতা জানাচ্ছেন।

একই সঙ্গে আলোচনায় এসেছে— ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিনের কন্যা শুকু সরকারি সহায়তা পাবেন কি না।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তার চিকিৎসা চলছে দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ায়। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো সরকারিভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো সহায়তার আবেদন করা হয়নি, তবে সরকারের কাছে আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগোচ্ছে বলে জানা গেছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে ক্যানসারের চতুর্থ ধাপে (ফোর্থ স্টেজ) রয়েছেন এবং চিকিৎসার সঙ্গে শরীর ইতিবাচকভাবে সাড়া দিচ্ছে। ধারাবাহিক চিকিৎসা চালিয়ে গেলে উন্নতির সম্ভাবনাও রয়েছে বলে মত দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

নির্মাতা নুরুল আলম আতিক বাংলাট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, দীর্ঘ চিকিৎসার পর কিছুদিন আগে তিনি দেশে ফিরেছিলেন। তবে আবারও বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তার ভাষ্যে, “চিকিৎসার ধারাবাহিকতাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বন্ধু সহকর্মীরা সরকারের কাছে আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দেখা যাক সরকার সহযোগিতা করেন কিনা।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক তারকা ও নির্মাতা মাতিয়া বানু শুকুর সুস্থতা কামনা করে পোস্ট দিচ্ছেন।

নির্মাতা অনিমেষ আইচ লিখেছেন, “এমন ফুটফুটে সুন্দর আমার শুকু আপা। ভাষাসৈনিক মতিন সাহেবের মেয়ে তিনি, নিরহংকারী ও স্পষ্টবাদী। শরীরে ক্যানসার নিয়ে লড়াই করে যাচ্ছেন। শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোর কেউ নাই, নাকি আমার সকল চিন্তা মিথ্যা?”

অভিনেত্রী ও নির্মাতা মৌটুসী বিশ্বাস লিখেছেন, “চুপচাপ থেকেও তিনি অসাধারণ কাজ করেছেন। বাসা, পরিবার, লেখা, পরিচালনা—সব সামলেছেন নিঃশব্দে। তিনি যেন আরও শক্ত থাকেন, এই প্রার্থনা।”

অন্যদিকে নির্মাতা খন্দকার সুমন লিখেছেন, “তিনি শুধু নির্মাতা নন, আমাদের কাছে একজন অভিভাবকের মতো। সরকার ও সমাজের উচিত এমন শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানো।”

সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এই সম্মিলিত প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট—মাতিয়া বানু শুকুর অসুস্থতা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং দেশের চলচ্চিত্র ও নাট্যাঙ্গনের জন্যও এক গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সব মিলিয়ে এখন অপেক্ষা—তার চিকিৎসার ধারাবাহিকতা কতটা দ্রুত এগোয় এবং সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা কত দ্রুত কার্যকরভাবে পৌঁছায়।

 

কালের সমাজ/ কে.পি

Link copied!