ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩

শেরপুরে ধর্ষণ ও মানবপাচারের গ্রেফতার ২

জেলা প্রতিনিধি, শেরপুর | এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম শেরপুরে ধর্ষণ ও মানবপাচারের    গ্রেফতার ২

সিপিসি-১, র‍্যাব-১৪, জামালপুর ক্যাম্প পৃথক অভিযানে শেরপুর জেলার সদর ও নালিতাবাড়ী উপজেলার ধর্ষণ ও মানবপাচারের দুই মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জ জেলার পৃথক স্থান থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন— শেরপুরের নালিতাবাড়ী থানার ধর্ষণ মামলার আসামি আব্দুল ওহাব (৬০) এবং মানবপাচার মামলার আসামি জুয়েল (৪০)। উভয়েই শেরপুর জেলার বাসিন্দা।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, নালিতাবাড়ী থানার একটি ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি আব্দুল ওহাব (৬০)-কে ২০ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ দুপুর আনুমানিক ২টা ১০ মিনিটে র‍্যাব-৭, সিপিসি-৩, চান্দগাঁও-এর সহায়তায় চট্টগ্রাম জেলার খুলশী থানাধীন গরিবুল্লাহ শাহ হাউজিং সোসাইটি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রথম ঘটনায় জানা যায়, ভুক্তভোগী (২২) তার শারীরিক প্রতিবন্ধী স্বামী ও চার বছরের সন্তান নিয়ে শ্বশুরের বাড়িতে বসবাস করতেন। তার স্বামী নিয়মিত ভিক্ষা করে সংসার চালাতেন। গত ১১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে স্বামী ভিক্ষায় বের হলে বাড়িতে একা থাকার সুযোগে শ্বশুর আব্দুল ওহাব কৌশলে ভিকটিমকে ভাসুরের ঘরে যেতে বলেন। দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে ভিকটিম ঘরে প্রবেশ করলে আসামি তাকে পিছন থেকে জাপটে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নম্বর-২০, তারিখ-১৪ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ধারা-৯(১), নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০।

অপরদিকে, মানবপাচার মামলার আসামি জুয়েল (৪০)-কে ২০ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ দুপুর আনুমানিক ২টা ২৫ মিনিটে র‍্যাব-১, সিপিসি-৩, পূর্বাচলের সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন নীলা মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

দ্বিতীয় ঘটনায় জানা যায়, ভুক্তভোগী মোঃ শিমুল ইসলাম (২০)-কে কম্বোডিয়ায় ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আসামিরা তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নেয়। পরে তাকে ভ্রমণ ভিসায় কম্বোডিয়ায় পাঠিয়ে একটি কোম্পানির কাছে ২ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে চাকরি না দিয়ে তাকে আটক রেখে নির্যাতন করা হয়।

পরবর্তীতে জামানতের কথা বলে আরও ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বোন আকলিমা খাতুন (৩০), পিতা-মোঃ আব্দুর রশিদ, সাং-সন্ন্যাসীরচর, থানা-সদর, জেলা-শেরপুর বাদী হয়ে মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল, শেরপুরে পিটিশন মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে শেরপুর সদর থানায় মামলা নম্বর-২০, তারিখ-০৬ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ এর ৬(২)/৭/৮(২) ধারায় মামলা রুজু হয়।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ শেরপুর সদর থানাধীন কসবা মাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মানবপাচার মামলার অন্যতম আসামি মোঃ শামীম মিয়া ওরফে শামীম (২২)-কে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

র‍্যাব জানায়, মামলা দুটির তদন্তকারী কর্মকর্তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সিপিসি-১, র‍্যাব-১৪, জামালপুর ক্যাম্প গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে তথ্য সংগ্রহ করে এবং আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!