গত ২৪ ঘণ্টায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের কোনো ধরনের আলোচনা ও সংলাপ হয়নি বলে জানিয়েছেন, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি।
ইরানের অবকাঠামোগুলোতে হামলার হুমকি দেয়ার পর ট্রাম্প তার এই হুমকির অবস্থান থেকে পিছু হটেছেন- এ বিষয়ে একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে বাকায়ি বলেছেন, যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য কয়েকটি বন্ধু রাষ্ট্রের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ইরানের কাছে বার্তা পাঠিয়েছে এবং ইরান তার দাবি-দাওয়া ও নীতি-অবস্থানের আলোকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, এইসব প্রতিক্রিয়ায় ইরানের মৌলিক বা প্রধান অবকাঠামোগুলোতে যে কোনো হামলার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানের জ্বালানী অবকাঠামোগুলোর বিরুদ্ধে যে কোনো পদক্ষেপের অত্যন্ত কঠোর, তাৎক্ষণিক ও কার্যকর জবাব দিবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।
চাপিয়ে দেয়া চলমান যুদ্ধের গত ২৪ ঘণ্টায় মার্কিন সরকারের সঙ্গে ইসলামী ইরানের কোনো আলোচনা হওয়ার কথা নাকচ করে দিয়ে বাকায়ি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি ও চাপিয়ে-দেয়া যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়ে ইরানের নীতি অবস্থানে কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন: মার্কিন-ইসরায়েলি মিথ্যা গল্প-প্রচারে হাঁপিয়ে উঠেছে বিশ্ব।
ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, ইরান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে ইরানের প্রধান বিদ্যুত কেন্দ্র ধ্বংস করে দিবেন, এর জবাবে ইরানও পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন শেয়ারযুক্ত সব বিদ্যুত-স্থাপনা ধ্বংস করার হুমকি দিলে ট্রাম্প পিছিয়ে এসে বলেছে, ইরানের অর্থনৈতিক কোনো অবকাঠামোয় হামলা করবে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের সঙ্গে আলোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। কিন্তু ইরান মার্কিন সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা হওয়ার দাবিকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
এরও আগে ট্রাম্প কয়েক বার দাবি করেছিলেন যে ইরান যুদ্ধ বন্ধের জন্য তথা যুদ্ধ-বিরতির জন্য মার্কিন সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু ইরান এইসব দাবিকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ট্রাম্প ও ইসরায়েলের নেতানিয়াহু বার বার দাবি করেছে যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রায় ধবংস বা দুর্বল করে ফেলা হয়েছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও ইসরায়েলি ও মার্কিন অবস্থানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে ও জোরালো হয়েছে আগের চেয়েও এবং এমনকি ইসরায়েলের সুরক্ষিত পরমাণু স্থাপনা দিমুনার ওপরও আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো। সূত্র : পার্সটুডে।
কালের সমাজ/এসআর

