রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আজ (শনিবার, ৯ মে) শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
রাজ্যের উত্তাল রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে এই পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে সরকার গড়লো বিজেপি। এর মধ্য দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ ১৫ বছরের ঘরানার শাসনের অবসান হলো। এনডিটিভি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এক সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করা শুভেন্দু আজ তারই ছেড়ে আসা গদিতে বসলেন। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান প্রেক্ষাপটে শুভেন্দু অধিকারীর এই রাজনৈতিক উত্থান কোনো সিনেমার গল্পের চেয়ে কম নাটকীয় নয়।
এককালের ছায়াসঙ্গী থেকে তৃণমূলের নীতিনির্ধারক, আর আজ নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের ভোটারদের আস্থায় বিজয়ী এক নায়কের বেশে তার এই অভিষেক। ঠিক যেন সেই রোমান সেনাপতির মতো, যিনি ন্যায়বিচারের নেশায় বীরের বেশে ফিরে এসেছেন।
আজকের দিনটি কেবল শুভেন্দু বা বিজেপির স্বপ্নপূরণের দিন নয়; এটি পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ভাগ্যবদলের এক বড় মাইলফলক।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সশরীরে উপস্থিতিই বলে দিচ্ছে, বিজেপির কাছে এই জয়ের গুরুত্ব কতটা। আদর্শের লড়াই বা জয়-পরাজয় যা-ই হোক, রাজ্যের রাজনীতিতে এটি এক বিশাল মোড়।
আজ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীর পুণ্যলগ্নে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শুভেন্দুর সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু ও অশোক কীর্তনিয়া।
রাজ্যপাল আর এন রবি নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ও অন্য মন্ত্রীদের শপথ বাক্য পাঠ করান। ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ২০৭টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিজেপি। এর মাধ্যমেই রাজ্যটিতে তৃণমূল কংগ্রেসের দেড় দশকের শাসনের অবসান ঘটলো।
কালের সমাজ/ওজি

