ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

পাকিস্তানের সামরিক কৌশলে ভারতের কপালে চিন্তার ভাঁজ?

কালের সমাজ ডেস্ক | অক্টোবর ২২, ২০২৬, ০১:১০ পিএম পাকিস্তানের সামরিক কৌশলে ভারতের কপালে চিন্তার ভাঁজ?

সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে পাকিস্তান, তুরস্ক, কাতার ও ইন্দোনেশিয়া। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তির মাধ্যমে উন্নত সামরিক প্রযুক্তি পাওয়ার পাশাপাশি চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ পেতে পারে পাকিস্তান।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দোহায় সই হওয়া ‘বদর সমঝোতা স্মারকে’ যৌথভাবে অস্ত্র উৎপাদন, প্রযুক্তি বিনিময়, সামরিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণায় সহযোগিতার কথা রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে দেশটির সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা ভারতের জন্য নতুন কৌশলগত হিসাব-নিকাশের বিষয় হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু কী আছে এই বদর চুক্তিতে, আর পাকিস্তানের জন্যই বা কতটা গুরুত্বপূর্ণ এটি?

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য উইক বলছে, গত আগস্টে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হওয়ার কয়েক মাসের মাথায় চার দেশের মধ্যে ‘বদর চুক্তি’ সইয়ের নতুন এ উদ্যোগ এলো। ওই চুক্তিতে বলা হয়েছিল, অংশগ্রহণকারী তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলা হলে সেটি তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।

বুধবার কাতারের রাজধানী দোহায় বদর সমঝোতা স্মারকে সই করেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ, তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের, কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুর রহমান এবং ইন্দোনেশিয়ার উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী ইউসুফ জৌহারি।

কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সহযোগিতা জোরদার, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ ও গবেষণার প্রসার ঘটানোই এ চুক্তির লক্ষ্য।

মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, এ চুক্তির আওতায় চার দেশ তাদের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের সক্ষমতা একত্র করতে পারবে। পাশাপাশি মিত্র ও বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর চাহিদা অনুযায়ী সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করতে পারবে।

তুরস্কের ডিফেন্স ইন্ড্রাস্ট্রি প্রেসিডেন্সির চেয়ারম্যান হালুক গোরগুন বলেছেন, যৌথ উৎপাদন ও প্রযুক্তি উন্নয়নে কৌশলগত সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করবে এ চুক্তি। গোরগুন বলেন, ‘প্রযুক্তি বিনিময়, যৌথ উন্নয়ন এবং নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা জোরদার করা টেকসই প্রতিরক্ষা শিল্পের মূল ভিত্তি।’

তিনি আরও বলেন, প্রচলিত অস্ত্র কেনাবেচার গণ্ডি পেরিয়ে যেসব অংশীদারত্ব দেশগুলোর নিজস্ব প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও শিল্প অবকাঠামো গড়ে তুলতে সহায়তা করে, তুরস্ক সেসব উদ্যোগকে গুরুত্ব দেয়।

গোরগুন বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, বদর সমঝোতা স্মারক কাতার, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও তুরস্কের পরস্পর-পরিপূরক সক্ষমতাকে বাস্তব প্রকল্পে রূপ দিতে সহায়তা করবে।’

অবশ্য এ চুক্তি নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর।

বদর চুক্তি যে কারণে ভারতের জন্য উদ্বেগের
পাকিস্তানসহ চার দেশের এই বদর চুক্তি ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। মূলত আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হওয়ায় সেটি ভারতের জন্য চিন্তার বিষয়।

বর্তমানে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের জন্য চীনের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল পাকিস্তান। তবে বদ চুক্তির মাধ্যমে তুরস্ক, কাতার ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা পরমাণু অস্ত্রধারী এই দেশটিকে অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি সংগ্রহের উৎস বহুমুখী করতে সহায়তা করতে পারে।

এছাড়া সামরিক সরঞ্জামের যৌথ উৎপাদন, প্রযুক্তি বিনিময় এবং গবেষণার ওপর চুক্তিটিতে গুরুত্ব দেয়ায় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও উন্নত ও অত্যাধুনিক হওয়ার সুযোগও বাড়াতে পারে। এর মধ্যে ড্রোনের মতো প্রযুক্তিও রয়েছে। এ ধরনের সহযোগিতা পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিতে পারে।

তবে এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে কোনো যৌথ সামরিক জোট গঠন করা হয়নি। একইভাবে ভারতের সঙ্গে সংঘাতে জড়ালে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়াতে হবে—এমন বাধ্যবাধকতাও এতে নেই। বরং অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সুযোগ বাড়ানোর সম্ভাবনাই চুক্তিটির মূল তাৎপর্য।

এছাড়া চুক্তিতে ইন্দোনেশিয়ার অংশগ্রহণও নতুন একটি মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে এতোদিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানির সুযোগ খুঁজছিল নয়াদিল্লি।

কয়েক মাস আগে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ভারতের ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য অ্যাস্ট্রা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার খবর প্রকাশিত হয়। সম্ভাব্য ৬৩০ মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তির আওতায় এ সরবরাহের বিষয়টি আলোচনায় ছিল।

তবে গত আগস্টে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে সই হওয়া মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির সঙ্গে বদর সমঝোতা স্মারকের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। বদর চুক্তিতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার কোনো সুস্পষ্ট অঙ্গীকার নেই।

মক্কা চুক্তিতে অংশগ্রহণকারী একটি দেশের ওপর হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হলেও বদর চুক্তির মূল লক্ষ্য প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, প্রযুক্তির উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!