ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২
আবু সাঈদ হত্যা

পলাতক মশিউর ও আসাদুজ্জামানের ১০ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক | এপ্রিল ৯, ২০২৬, ০১:০২ পিএম পলাতক মশিউর ও আসাদুজ্জামানের ১০ বছরের কারাদণ্ড

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য (ভিসি), সাবেক পুলিশ কমিশনার ও প্রক্টরসহ বাকি ২৮ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।

আবু সাঈদকে সরাসরি গুলি করার দায়ে দুই পুলিশ সদস্যকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিতরা হলেন-রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

হত্যাকাণ্ডের সময় মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বে থাকা তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন— সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক ওসি রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।

আদালত এই হত্যাকাণ্ডে প্ররোচনা ও দায়িত্বহীনতার দায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন শীর্ষ প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও দণ্ড দিয়েছেন। তাদের মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রশিদ ওরফে বাচ্চু এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টু—উভয়কেই ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সাবেক প্রক্টর শরীফুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী এবং সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেনকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড পেয়েছেন।

এছাড়া বেরোবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান শামীমসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে তিন থেকে পাঁচ বছর মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। স্বাচিপ নেতা ডা. সারোয়াত হোসেন চন্দন পেয়েছেন পাঁচ বছরের কারাদণ্ড।

প্রক্টর অফিসের কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেল ইতিমধ্যেই সাজার মেয়াদ পূর্ণ করায় তাকে খালাস বা মুক্তির আদেশ দিয়েছে আদালত।

রায়ের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পেলে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করবো।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দাঁড়িয়ে থাকা নিরস্ত্র সাঈদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণের সেই দৃশ্য পুরো বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিলো, যা পরবর্তীকালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে ত্বরান্বিত করে। সেই কলঙ্কিত হত্যাকাণ্ডের বিচারের মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক অধ্যায় সম্পন্ন হলো।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!