বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কল্যাণে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে যারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, উন্নয়ন ও জনস্বার্থনির্ভর কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে, জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে চানাচুর-এর সঙ্গে তুলনা করায় তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার মতে, রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ নথিকে এভাবে উপস্থাপন করা দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি গঠনমূলক সমালোচনা ও ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জনগণের জন্য যেই বাজেটে সকল ব্যবস্থা রেখেছি, সেই বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে, তারা কি কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে? তারা কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে না।
বুধবার দুপুরে শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫৫টি পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকে বলেছে সেই বাজেট বলে তারা মানে না। দেখেছেন না পত্রিকায়? সংবাদে?
আবার অনেকে বলেছে, এই বাজেট নাকি চানাচুরের মতন! শুনেছেন এই কথা? কিছু কিছু লোক বলেছে।
তারেক রহমান বলেন, যেই বাজেট জনগণের বাজেট, যেই বাজেটের মাধ্যমে আমরা জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই, সেই বাজেটকে তারা চানাচুরের সাথে তুলনা করে,ৃসেই বাজেটকে তারা বলে গণবিরোধী বাজেট!
সংসদের বাইরে ও ভেতরে ওইসব সমালোচকদের বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই সকল লোকেরা, এই সকল দলগুলো দেশে যদি অশান্তি করার সুযোগ পায়, তাহলে আমরা ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন করতে পারব না। আজকে প্রতিবন্ধী মানুষগুলোকে যে আমরা সহযোগিতা করলাম, এই যে গরিব ছাত্র স্টুডেন্টগুলোকে যে আমরা সহযোগিতা করলাম, এই যে আমরা নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের উপর থেকে যে ৬০টি দ্রব্যের উপর থেকে যে আমরা ট্যাক্স তুলে নিতে পারলাম—এটি আমরা তাহলে কন্টিনিউ করতে পারব না।
কাজেই যারা এসব কাজে বাধা দেবে, কী ব্যবস্থা করা উচিত তাদের বিরুদ্ধে? সতর্ক থাকতে হবে তাদের বিরুদ্ধে এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে সিলেট অঞ্চলে ভোটের প্রচারে এসে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সে কথা মনে করে বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, আমি আমার কথা আজকে রাখতে পেরেছি।ৃ চা-বাগানের যারা নারী শ্রমিক আছেন, তাদের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিয়েছি আজকে।
হ্যাঁ, আমরা হয়তো আজকে সবাইকে দিতে পারিনি, কিন্তু ইনশাআল্লাহ আগামী এক বছরের মধ্যে আমরা প্রায় সকল নারী শ্রমিকের কাছে, চা-বাগানের সকলের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব ইনশাআল্লাহ।
তারেক রহমান বলেন, তার সরকার মনে করে, পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য সাহায্য করা না গেলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। এবং সে কারণেই আজকে শুধু ফ্যামিলি কার্ডই নয়, এই যে চা-বাগানের শ্রমিক নারী শ্রমিক যারা, তাদের ৫০ জন শ্রমিককে ঘর বানানোর জন্য ২ লক্ষ টাকা আমরা দিয়েছি।
চা-শ্রমিকরা অত্যন্ত কষ্টে থাকে আমরা জানি, ধীরে ধীরে তাদেরকে একটু ভালো অবস্থায় যাতে আনা যায়, সেই জন্য আমরা ২ লক্ষ টাকা করে দিয়েছি।
এর বাইরেও চা-শ্রমিকদের সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য বিশেষ বৃত্তি দেওয়ার কথাও সরকারপ্রধান বলেন।
অনুষ্ঠানে কয়েকজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়া দেওয়া হয়। পাশাপাশি দেশের কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে বাজেট অর্থ বরাদ্দ রাখার কথা, আগামী এক বছরে দেশের ৪০ লাখ কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও প্রধানমন্ত্রী বলেন।
তারেক রহমান বলেন, এটাই হচ্ছে বিএনপির রাজনীতি। আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে চাই, দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই, মানুষকে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই।
কালের সমাজ/এবি

