ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
জলমগ্ন কুমিল্লা নগরী

ভেজা কাপড়ে তিনঘন্টার পরীক্ষায় বসলো তারা

কালের সমাজ ডেস্ক | জুলাই ১৩, ২০২৬, ০১:২৪ পিএম ভেজা কাপড়ে তিনঘন্টার পরীক্ষায় বসলো তারা

মাত্র তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতেই  জলমগ্ন কুমিল্লা নগরী। কোথাও কোথাও কোমড় সমান পানি। কোথাও আবার নৌকায় পরীক্ষা কেন্দ্রের পথে পড়ুয়ারা। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। কোমরসমান পানি ভেঙ্গে, ভেজা কাপড়েই নগরীর কয়েকটি পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে তাদের।

শিক্ষার্থীদের এই চরম  দুর্ভোগে অভিভাবকদের দীর্ঘ শ্বাস, আমার মেয়েটা এতক্ষণ ভেজা শরীর নিয়ে বসে কেমন করে পরীক্ষা দেবে জানি না।

সোমবার ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত চলা এই প্রবল বর্ষণে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক, অলিগলি থেকে শুরু করে বিভিন্ন আবাসিক এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে যাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জনজীবন।

কুমিল্লা আবহাওয়া অফিসের প্রধান কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দিনভর আরও ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে সোমবার ভোররাত থেকে হঠাৎ শুরু হওয়া এই মুষলধারে বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ ও দিনমজুরেরা। অনেকের ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পানিতে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিন সকাল থেকে নগরীর অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। কর্মস্থলে যেতে দুর্ভোগে পড়েন অফিসগামী মানুষ। কাকভেজা অবস্থায় স্কুল-কলেজে যেতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের।

জলাবদ্ধতার কারণে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ এবং কুমিল্লা সরকারি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে হাঁটুসমান পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। অনেক পরীক্ষার্থী পানি মাড়িয়ে, আবার কেউ নৌকায় করে কেন্দ্রে পৌঁছান।

নগরীর চর্থা এলাকায় কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের বাইরে দেখা যায়, প্লাস্টিকের নৌকায় করে কেউ কেউ কেন্দ্রে প্রবেশ করছেন। বেশিরভাগ ছাত্রীকে কোমরসমান পানি পেরিয়ে ভেজা শরীর নিয়েই পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকতে হয়েছে। ভেজা কাপড়ে তিন ঘণ্টার পরীক্ষা দিতে গিয়ে তারা চরম অস্বস্তিতে পড়েন।

সেখানে আবদুস সালাম নামের এক অবিভাবক বলেন, কিছুই করার নেই। চাঁনপুর থেকে আধাপথ হেঁটেই এসেছি মেয়েকে নিয়ে। রাস্তায় রিকশা-অটো কিছু নাই। কোমর অব্দি পানি পেরিয়ে কেন্দ্রে আসতে হয়েছে।

আমার মেয়েটা এতক্ষণ ভেজা শরীর নিয়ে বসে কেমন পরীক্ষা দেবে জানি না।

কুমিল্লা সিটির প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুকে পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিতে দেখা গেছে।

জলাবদ্ধতা যাতে দীর্ঘস্থায়ী না হয়, সে জন্য সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে করপোরেশন কর্তৃপক্ষ।

টানা বৃষ্টিতে নগরীর জিলা স্কুল সড়ক, পুলিশ লাইনস, রেসকোর্স, চর্থা, ঠাকুরপাড়া, বিসিক শিল্পনগরী, গোবিন্দপুর, মুরাদপুর এবং শহরতলীর ছায়াবিতান এলাকায় সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। বিভিন্ন বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নিচু স্থাপনায় পানি ঢুকে পড়েছে।

অনেক স্থানে ড্রেন উপচে ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি সড়কে ছড়িয়ে পড়ায় জনদুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

এদিকে এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও ভারি বৃষ্টিপাতের সুযোগে নগরীতে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ভাড়া দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।


কালের সমাজ/এ এইচবি 

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!