প্রযুক্তির নানা সুবিধা আমরা প্রতিদিন ব্যবহার করলেও এর পেছনে থাকা ছোট ছোট নকশাগত কৌশল অনেক সময় আমাদের নজর এড়িয়ে যায়। ইউএসবি বা পেনড্রাইভের কানেক্টরের মাথায় থাকা দুটি ছোট ছিদ্রও তেমনই একটি বিষয়। দেখতে সাধারণ হলেও এই ছিদ্রগুলোর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
১৯৯৬ সালে ইন্টেলসহ আইবিএম, মাইক্রোসফট ও কমপ্যাকের মতো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় ইউনিভার্সাল সিরিয়াল বাস (ইউএসবি) প্রযুক্তির যাত্রা শুরু হয়। ইউএসবি চালু হওয়ার আগে প্রিন্টার, স্টোরেজ ডিভাইস বা কম্পিউটারের সঙ্গে অন্যান্য যন্ত্র সংযোগ করতে বিভিন্ন ধরনের পোর্ট ও আলাদা কেবলের ওপর নির্ভর করতে হতো।
সময়ের সঙ্গে ইউএসবি প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসার ঘটে। বর্তমানে চার্জিং থেকে শুরু করে ডেটা স্থানান্তর; বিভিন্ন কাজে ইউএসবি ব্যবহার করা হয়। ইউএসবির বেশ কয়েকটি সংস্করণ এসেছে, যার মধ্যে ছোট ও উভয় দিক থেকে সংযোগযোগ্য ইউএসবি টাইপ-সি বর্তমানে সবচেয়ে পরিচিত। তবে প্রচলিত ইউএসবি টাইপ-এ কানেক্টর এখনও অনেকের কাছে সবচেয়ে পরিচিত।
দুটি ছিদ্র আসলে কেন থাকে?
ইউএসবি টাইপ-এ কানেক্টরের দুই পাশে থাকা ছোট বর্গাকার ছিদ্র দুটি মূলত কানেক্টরকে পোর্টের সঙ্গে শক্তভাবে আটকে রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছে। তথ্য স্ল্যাশগিয়ার-এর।
কম্পিউটার বা অন্য কোনো ডিভাইসের ইউএসবি পোর্টের ভেতরে সাধারণত দুটি স্প্রিংযুক্ত ধাতব ক্লিপ থাকে। কানেক্টরটি পোর্টে ঢোকানোর সময় এই ক্লিপগুলো ইউএসবি কানেক্টরের দুই পাশের ছিদ্রের সঙ্গে ঠিকভাবে মিলে যায়। ফলে কানেক্টরটি নির্দিষ্ট অবস্থানে পৌঁছানোর পর ক্লিপগুলো ছিদ্রে আটকে যায়।
এ কারণেই ইউএসবি কানেক্টরটি পোর্টে ঢোকানোর পর অনেক সময় হালকা ‘ক্লিক’ অনুভূত হয়। সব পোর্টে অবশ্য শব্দ শোনা যায় না, তবে ধীরে কানেক্টর ঢোকালে সেটি ঠিকমতো বসে গেছে বলে মনে যেতে পারে।
ছিদ্র দুটি না থাকলে কী হতো?
এই ছোট্ট লকিং ব্যবস্থা না থাকলে ইউএসবি কানেক্টরটি শুধু পোর্টের ঘর্ষণ ও নিজের ওজনের ওপর নির্ভর করে সংযুক্ত থাকত। ফলে সামান্য টান, নড়াচড়া বা অবস্থান পরিবর্তনের কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যেত।
বিশেষ করে ডেটা স্থানান্তরের সময় হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে ফাইল কপি বা ডেটা ট্রান্সফারে সমস্যা হতে পারে। দুটি ছিদ্রের সঙ্গে পোর্টের ভেতরের ক্লিপের সংযোগ কানেক্টরটিকে তুলনামূলকভাবে স্থির রাখতে সাহায্য করে।
প্রতিদিন হাতে নেওয়া একটি পেনড্রাইভের ছোট্ট এই অংশের পেছনেও যে এমন কার্যকর প্রকৌশল রয়েছে, তা সত্যিই অনেকের কাছে অজানা।
কালের সমাজ/এসআর

