মালয়েশিয়ায় চাকরি করতে যেতে আর গুনতে হবে না অভিবাসন ব্যয়ের টাকা! বিমানভাড়া থেকে শুরু করে মেডিকেল পরীক্ষা—সব খরচ বহন করবে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। দেশটির খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ডিএইচএল সাপ্লাই চেইনে কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যে লটারির মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৩০০ জন বাংলাদেশিকে নির্বাচন করা হয়েছে। ৪ হাজার ২৯ জন আবেদনকারীর মধ্য থেকে বাছাই করা এসব প্রার্থীর ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে চূড়ান্তভাবে ১১২ জনকে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই শুরু হতে পারে তাঁদের যাত্রা।
মালয়েশিয়ার খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ‘ডিএইচএল সাপ্লাই চেইন (মালয়েশিয়া) এসডিএন. বিএইচডি’-তে কর্মী নিয়োগের জন্য এই লটারি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
গত ৬ নভেম্বর থেকে ৮ নভেম্বর বিকেল পর্যন্ত অনলাইনে জমা পড়া আবেদন থেকে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে প্রাথমিকভাবে ৩০০ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে লটারি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মোট ৪ হাজার ২৯ জন প্রার্থী আবেদন করেন। তাঁদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন ৩০০ জন।
প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ৩০০ জনকে দুটি পদে ভাগ করা হয়েছে। অপারেশনস অ্যাসিস্ট্যান্ট: ২০০ জন। টেকনিক্যাল স্কিল ওয়ার্কার্স: ১০০ জন।
নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা শিগগিরই বোয়েসেলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হবে।
লটারিতে নির্বাচিত হলেই মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত হচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ৩০০ জনকে পরবর্তী ধাপে ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।
নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ডিএইচএল সাপ্লাই চেইনের প্রতিনিধিরা সরাসরি উপস্থিত থেকে এসব পরীক্ষা গ্রহণ করবেন। পরীক্ষা শেষে যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে ১১২ জন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।
অর্থাৎ, প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ৩০০ জনের মধ্য থেকেই চূড়ান্তভাবে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পাবেন ১১২ জন।
বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হক জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই নির্বাচিত কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর জন্য ফ্লাইট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, বোয়েসেল ইতিমধ্যে পর্যটন, ম্যানুফ্যাকচারিং এবং কেয়ারগিভিং খাতে আরও ৫৫৮ জন কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র পেয়েছে।
এই নিয়োগের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে শূন্য অভিবাসন ব্যয়। কর্মীদের মালয়েশিয়া যেতে কোনো অভিবাসন খরচ বহন করতে হবে না।
মেডিকেল পরীক্ষা, বিমানভাড়াসহ নিয়োগ-সংশ্লিষ্ট সম্পূর্ণ খরচ বহন করবে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। ফলে নির্বাচিত হয়ে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ কর্মীরা সম্পূর্ণ বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
অনুষ্ঠানে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আহমাদুল হক বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি জনশক্তি বিদেশে পাঠানোর যে লক্ষ্য রয়েছে, এ ধরনের উদ্যোগ তা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর ঘোষিত ‘জিরো কস্টে’ কর্মী পাঠানোর প্রতিশ্রুতিও এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাস্তব রূপ পাচ্ছে।
অন্যদিকে বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হক বলেন, সরকারিভাবে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে এই প্রথমবারের মতো লটারির মাধ্যমে যোগ্য ও দক্ষ কর্মী বাছাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তাঁর ভাষ্য, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশবাসীকে বোয়েসেলের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার বার্তা দিতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
সব মিলিয়ে, সরকারি ব্যবস্থাপনায় শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের এই উদ্যোগ বিদেশ যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এখন প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ৩০০ প্রার্থীর ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার পর চূড়ান্ত ১১২ জনের তালিকার অপেক্ষা।
কালের সমাজ/কে.পি

