খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন বাজারে নিত্যপণ্যের দামে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। বাজারে গরুর মাংসের দাম বেড়ে প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংসের দামও রয়েছে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। তবে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় বেশ কয়েক ধরনের সবজির দাম কিছুটা কমেছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
অন্যদিকে, মুরগি ও ডিমের দাম আগের চড়া অবস্থাতেই রয়েছে। ভোজ্যতেলের সরবরাহে কিছুটা ঘাটতির অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। চালের বাজারেও উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
উপজেলার ডুমুরিয়া বাজার, চুকনগর, খর্ণিয়া ও টিপনা হাটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
মাংস ও মুরগির বাজারে চড়া দাম
স্থানীয় খুচরা বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা এবং অন্য এক ধরনের মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির বাজারে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হালি ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়।
ডুমুরিয়া বাজারের মাংস বিক্রেতারা জানান, পাইকারি বাজারে গরুর দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও মাংসের দাম বেড়েছে।
ভোজ্যতেলের সরবরাহে ঘাটতির অভিযোগ
ডুমুরিয়ার অধিকাংশ দোকানে ভোজ্যতেলের সরবরাহ কিছুটা কম দেখা গেছে। খুচরা বাজারে প্রতি লিটার ভোজ্যতেল বিক্রি হচ্ছে ২০৫ টাকায়। ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি আড়ত থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি কোম্পানির প্রতিনিধিরা দাম বাড়ার ইঙ্গিত দেওয়ায় সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে বলে তাঁরা জানান।
শীতকালীন সবজিতে কিছুটা স্বস্তি
শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় বাজারে বেশ কয়েক ধরনের সবজির দাম কিছুটা কমেছে। তবে ক্রেতাদের মতে, সবজির দাম এখনো পুরোপুরি নাগালের মধ্যে আসেনি।
বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি বড় বেগুন ১০০ টাকা, মাঝারি বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং উচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া কাঁচা পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, কচুর লতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৬০ থেকে ৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঝিঙে ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আকারভেদে প্রতিটি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। প্রতি কেজি শিম ৬০ টাকা, দেশি ও হাইব্রিড শসা ৭০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৪০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে। মানভেদে কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ১৬০ টাকা এবং দেশি টমেটো ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
শাক, পেঁয়াজ ও রসুনের বাজার
বাজারে প্রতি আঁটি লালশাক ১৫ থেকে ২০ টাকা, লাউশাক ৪০ টাকা এবং কলমিশাক ও মূলাশাক ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া প্রতি কেজি দেশি আদা ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা, আমদানি করা রসুন ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডায়মন্ড আলু পাওয়া যাচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে।
চালের বাজারে স্থিতিশীলতা
ডুমুরিয়ার খুচরা বাজারে চালের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। বর্তমানে প্রতি কেজি মোটা স্বর্ণা ও ইরি চাল ৫০ থেকে ৫৮ টাকা, মাঝারি মানের পাইজাম, ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ চাল ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা এবং নাজিরশাইল ও মিনিকেট চাল ৭০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে মিশ্র চিত্র
নদ-নদী ও ঘের অধ্যুষিত ডুমুরিয়ায় মাছের বাজারেও দামের ভিন্নতা দেখা গেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি চাষের রুই মাছ ৩৩০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় বোয়াল ৮০০ টাকা, আইড় ৮৫০ টাকা, পাঙ্গাশ ২২০ থেকে ৩০০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া দেশি কৈ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং চিংড়ি ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় ক্রেতারা জানান, শীতকালীন সবজির সরবরাহ আরও বাড়লে বাজারে দাম কমে সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তি ফিরবে। তবে গরুর মাংস, ভোজ্যতেল ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সংসার পরিচালনায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
কালের সমাজ/কে.পি

