শীতের আমেজ ও হেমন্তের ছোঁয়ায় দেশের বাজারে এখন ভরপুর মিলছে জলপাই। সিলন অলিভ নামে পরিচিত এই ফলটিকে অনেকে মধ্যপ্রাচ্যের জয়তুনের সাথে মিলিয়ে ফেললেও এ দুটি ফল সম্পূর্ণ আলাদা। বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোচীনসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় উৎপাদিত এই ফলটি পুষ্টিগুণ ও সুস্বাদু আচারের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়।
মাগুরা অঞ্চলে জলপাই গাছের খুব একটা দেখা না মিললেও মহম্মদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ চত্বরের একটি গাছে সবুজ পাতার কোলে থোকায় থোকাই ধরেছে এই ফল। ২০১৩ সালে গাছটি রোপণ করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জানা যায়, মাগুরা সদরসহ মহম্মদপুর, শালিখা ও শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে এখন এই উপকারী ফল উঠেছে এবং মানভেদে প্রতি কেজি জলপাই ৩০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সাধারণত মাঝারি আকারের জলপাই গাছ ১০ থেকে ১২ মিটার পর্যন্ত উচু হয়। শীতকালে এর পাতা ঝরে গেলেও ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে নতুন পাতার সঙ্গে আসে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সাদা ফুল। গ্রীষ্মের মাঝামাঝি সময়ে ফোটা এই ফুলগুলোর সৌন্দর্য বেশ নজরকাড়া। শরৎ-হেমন্তে ফল পরিপক্ব হলে এর গাঢ় সবুজ ও আমড়ার আকৃতিযুক্ত রূপ সবার নজর কাড়ে।
পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, জলপাইয়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, খনিজ, ফাইবার এবং মূল্যবান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
প্রতি ১০০ গ্রাম জলপাইয়ে ৭০ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি, ৯.৭ গ্রাম শর্করা, ৫৯ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম এবং ১৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে। এর প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং সর্দি-জ্বর দূরে রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি, এটি রক্তের চিনি নিয়ন্ত্রণেও দারুণ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
কাঁচা খাওয়া ছাড়াও ডাল, টক রান্না কিংবা মুখরোচক আচার তৈরিতে জলপাইয়ের জুড়ি নেই। সিদ্ধ করে বিভিন্ন মসলা ও চিনির মিশ্রণে তৈরি জলপাইয়ের আচার দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়, যা ভাত বা খিচুড়ির সঙ্গে দারুণ জমে ওঠে। পরিবেশ ও অর্থনীতির দিক থেকেও জলপাই গাছ একটি বহুমুখী মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।
মহম্মদপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ইশরাত জাহান শিলু বলেন, ‘জলপাই নানান পুষ্টিগুনে সমৃদ্ধ, তবে আমাদের অঞ্চলে এই গাছ খুব একটা চোখে পড়ে না।’
মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. কাজী মো. আবু আহসান বলেন, “এই ফলটিতে ভিটামিন সি, খনিজ, ফাইবার এবং মূল্যবান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে; যা মানবদেহের জন্য খুবই উপকারী।”
কালের সমাজ/কে.পি

