ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

ইবির প্রয়াত শিক্ষার্থী তরিকুলের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল

ইবি | নভেম্বর ২, ২০২৬, ০৭:০১ পিএম ইবির প্রয়াত শিক্ষার্থী তরিকুলের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মরহুম তরিকুল ইসলাম সৈকতের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে বিভাগের করিডোরে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব আশরাফ উদ্দীন খান।

দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক তন্ময় সাহা জয়, সহকারী অধ্যাপক মো. উজ্জ্বল হোসেন, প্রভাষক মো. জাকির হোসেন ও প্রভাষক রোকাইয়া আক্তার। এ ছাড়া বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. বকুল হোসেন, তরিকুলের পরিবারের সদস্য এবং বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

তরিকুলের সহপাঠী মায়েশা মালিহা স্মৃতিচারণ করে বলেন, “তরিকুল ক্লাসে অনিয়মিত থাকলেও বিভিন্ন বিষয়ে তার ভালো জ্ঞান ছিল। সে ছিল হাসিখুশি, মিশুক ও ভালো মনের মানুষ। ছবি আঁকাসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে তার দক্ষতা ছিল। তার সঙ্গে আমাদের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। আমরা একসঙ্গে ঘুরেছি, আনন্দ করেছি। তবে গত দুই-তিন সেমিস্টার ধরে সে বন্ধুদের কাছ থেকে কিছুটা দূরে সরে গিয়েছিল। তার আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে সবাইকে মন থেকে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ করছি। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।”

তরিকুলের বড় ভাই বলেন, “আমরা দুই ভাই ছিলাম, এখন আমি একা হয়ে গেলাম। আল্লাহ তাকে নিয়ে গেছেন। কারও মনে ওর প্রতি কোনো অভিযোগ বা অভিমান থাকলে মন থেকে মাফ করে দেবেন। সবাই নামাজ পড়ে ওর জন্য বেশি বেশি দোয়া করবেন, যেন পরকালের জীবন সুখের ও শান্তির হয় এবং আল্লাহ তাকে জান্নাত নসিব করেন।”

সহকারী অধ্যাপক মো. উজ্জ্বল হোসেন বলেন, “তরিকুল পড়াশোনায় কিছুটা উদাসীন থাকলেও অত্যন্ত মেধাবী ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে তার বাড়তি জ্ঞান ছিল। শিক্ষাজীবনের শেষ পর্যায়ে যেন পড়াশোনা ব্যাহত না হয়, সে জন্য তাকে নিয়মিত পরীক্ষা ও ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে উৎসাহ দিয়েছি। ইন্টার্নশিপে সে আমার তত্ত্বাবধানে ছিল। তবে তার সঙ্গে যোগাযোগ কম থাকায় নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে আর ফিরে পেলাম না।”

তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতে যেন বিভাগে কোনো শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে এ ধরনের দোয়া মাহফিলের আয়োজন করতে না হয়, সে জন্য সবাইকে দোয়া করতে হবে। শিক্ষার্থীদের একে অপরের খোঁজখবর রাখতে হবে। কোনো বন্ধু টানা কয়েক দিন ক্লাসে না এলে তার খোঁজ নিতে হবে এবং বিপদে পাশে দাঁড়াতে হবে। আমি তরিকুলের জান্নাতবাস কামনা করি।”

বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক তন্ময় সাহা জয় বলেন, “তরিকুলের ক্লাসে উপস্থিতি কম থাকলেও পড়াশোনার বিষয়ে তার ভালো দক্ষতা ছিল। ক্লাসের পর বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করলে সে অনেকের চেয়ে ভালো উত্তর দিতে পারত। আমি তাকে কম্পিউটার ও আইসিটিসংশ্লিষ্ট কোর্স করার পরামর্শ দিয়েছিলাম। তরিকুল অত্যন্ত মিশুক ও প্রাণবন্ত ছিল। তবে তৃতীয় বর্ষে এসে পারিবারিক দায়িত্ব ও নানা সমস্যার কারণে তার পড়াশোনায় কিছুটা শৈথিল্য দেখা দেয়। এরপরও আমরা চেষ্টা করেছি, যেন সে নিজ ব্যাচের সঙ্গেই পড়াশোনা শেষ করতে পারে। আমি তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং সবার কাছে তার জন্য দোয়া কামনা করছি।”

 

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!