ঈশ্বরীর পার্শ্ববর্তী মৃধা কচুয়ায় পুকুরের মাছ মারা যাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে মামলা ও হয়রানির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. শামসুল হক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এসব হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা।
রবিবার (০৮ নভেম্বর) সকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. ডাক্তার মাসুদ রানা।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তাঁদের বাড়ির পাশে শামসুল হকের একটি পুকুর রয়েছে। প্রতিবছর পুকুরের পাড় ভেঙে তাঁদের বসতভিটার জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পুকুরের পাড় সংরক্ষণের জন্য জমি বেঁধে দেওয়ার কথা বলাকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত।
তাঁদের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট পুকুরের মাছ মেরে ফেলার অভিযোগে তাঁদের তিনজনের বিরুদ্ধে বড়াইগ্রাম থানায় মামলা করেন শামসুল হক। তবে মাছ মারা যাওয়ার ঘটনায় তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। পুলিশ তদন্তে এসে তাঁদের সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পায়নি বলেও দাবি করেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, চলতি বছরও ওই পুকুরে কিছু মাছ মারা যাওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে আবারও মামলা করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পুকুরপাড়ের বাসিন্দাদের জমি দখলের উদ্দেশ্যে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি পুলিশ প্রশাসনকে টাকা দিয়ে নিজের পক্ষে নেওয়ার কথাও অভিযুক্ত ব্যক্তি বলে বেড়ান বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
লিখিত বক্তব্যে ডাক্তার মাসুদ রানা বলেন, তাঁরা সাধারণ কৃষক। দিনভর কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। পুকুরে মাছ মারা যাওয়ার ঘটনায় তাঁদের কোনো ভূমিকা নেই। অথচ বারবার মামলা ও হয়রানির আশঙ্কায় তাঁরা উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, পুকুরের পানি পাঁচবার পরীক্ষা করানো হয়েছে। পরীক্ষায় পানিতে অক্সিজেনের ঘাটতি পাওয়া গেছে বলে তাঁদের দাবি। তাই মাছ মারা যাওয়ার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলন থেকে বড়াইগ্রাম থানা-পুলিশকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে হয়রানি বন্ধ, বসতভিটার জমির নিরাপত্তা ও এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগীরা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মো. জিন্নাত আলী মেম্বার, সাইদুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, আকসেদ মোল্লা, মো. আফাজ উদ্দিন মোল্লা, মোহাম্মদ মফিজ প্রামাণিক, মো. জমশেদ আলী, মো. মফিজ উদ্দিন, মো. তাইজ উদ্দিন ও মো. মজির উদ্দিন।
কালের সমাজ/কে.পি

