ঢাকা রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

আজ ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক | নভেম্বর ৭, ২০২৬, ১২:৪১ এএম আজ ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

আজ ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালনে সরকার, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দিনটি সাধারণ ছুটি হিসেবে পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের তফশিলি ব্যাংকও বন্ধ থাকবে। তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনসংক্রান্ত নির্দেশিকায় ৭ নভেম্বরকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করবে দলটি। এতে উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, সকাল সাড়ে ৮টায় শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রীসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। এরপর নয়াপল্টনে শোভাযাত্রার উদ্বোধনী বক্তব্য শেষে র‌্যালি শুরু হবে।

তিনি জানান, শোভাযাত্রাটি নয়াপল্টন থেকে কাকরাইল, প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হবে। এ ছাড়া দেশের জেলা ও মহানগর পর্যায়েও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হবে। দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ নানা কর্মসূচি পালন করবে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। বাণীতে তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্নীতি, বৈষম্য ও সব ধরনের ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটাতে হবে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিতে দেশ ও জনগণের স্বার্থে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায্যতা ও গণতন্ত্রচর্চা পাবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে বলেন, ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল। তাঁর ভাষায়, ওই বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের পথ তৈরি করতে হবে। ভবিষ্যতে কেউ যাতে দেশ ও জনগণের অধিকার হরণ করতে কিংবা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত।

দিবসটি উদযাপনে সরকার দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার উদ্যোগে দেশের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ জাতীয় পতাকায় সাজানো হবে।

দেশের মসজিদগুলোতে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা, শিশুকেন্দ্র ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। শিশুদের জন্য সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় পার্কগুলো দিনব্যাপী বিনা টিকিটে উন্মুক্ত থাকবে।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রে বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশের পাশাপাশি টেলিভিশন ও বেতারে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেশাত্মবোধক গানের আসর, আলোচনা সভা ও প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

সশস্ত্র বাহিনীর উদ্যোগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, মিলাদ মাহফিল, প্রীতিভোজ ও বিশেষ দরবারের আয়োজন করা হবে। ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ক্যাডেট কোরের তত্ত্বাবধানে বর্ণাঢ্য ডিসপ্লে প্রদর্শিত হবে। এ ছাড়া পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিসসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিশেষ কর্মসূচি পালিত হবে।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টা টোল ছাড়াই ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করতে পারবেন যানবাহন চালকেরা। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর একটি ঐতিহাসিক দিন। তাঁর মতে, ১৯৭৫ সালের এ দিনে সিপাহি-জনতার মিলিত বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুসংহত হয়েছিল।

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট মারুফ কামাল খান বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সিপাহি-জনতার বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে দিনটি জাতীয় ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে।

অন্যদিকে বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট গাজীউল হাসান খান ৭ নভেম্বরকে জিয়াউর রহমানের জীবন ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এ দিনের ঘটনাপ্রবাহ জিয়াউর রহমানকে দেশের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় নিয়ে আসে।

Link copied!