ঢাকা রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

সততা, দক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে সেবা করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

কালের সমাজ ডেস্ক | নভেম্বর ৮, ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম সততা, দক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে সেবা করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নবীন বিসিএস কর্মকর্তাদের সততা, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে জনগণ তাঁদের কাছ থেকে শুধু আদেশ-নির্দেশ নয়, মানবিক আচরণও প্রত্যাশা করে। সরকারি সেবা নিতে এসে কোনো নাগরিক যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে কর্মকর্তাদের।

রোববার সন্ধ্যায় সাভারে বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) মিলনায়তনে ৮১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সরকারের সামগ্রিক সাফল্য নিশ্চিত করতে দক্ষ, সৎ ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রশাসন অপরিহার্য। এসব গুণাবলি শুধু একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত মর্যাদা বাড়ায় না, বরং রাষ্ট্র ও সরকারকেও সমৃদ্ধ করে।

নবীন কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একাডেমিক জ্ঞান অর্জনের পর ব্যবহারিক জীবনে সেই জ্ঞান কীভাবে প্রয়োগ করতে হয়, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা সেই কৌশল শিখেছেন। এখন সরকারি প্রশাসনে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মধ্য দিয়ে অর্জিত জ্ঞানের প্রতিফলন ঘটাতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারে কর্মকর্তাদের কর্মস্থল ও কাজের ধরন ভিন্ন হতে পারে। তবে সবার প্রথম ও প্রধান পরিচয় তাঁরা জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা। তাঁদের মূল দায়িত্ব জনগণের সেবা করা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কী করা উচিত এবং কী করা উচিত নয়, তা কর্মকর্তারা নিজেরাই ভালো জানেন। তবে জানা বিষয়গুলো কর্মক্ষেত্রে বাস্তবায়নের সদিচ্ছাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

নির্মোহ ভাবে নাগরিক সেবায় নিজেদের আত্মনিয়োগ করতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জীবনের প্রয়োজনে প্রত্যেকেরই কখনো না কখনো অন্যের সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। নিজেরা অন্যের কাছ থেকে যে ধরনের ব্যবহার প্রত্যাশা করেন, সেবা নিতে আসা নাগরিকদের সঙ্গেও ঠিক তেমন আচরণ করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘কোনো নাগরিকের আবেদনপত্রে ভুল থাকলে শুধু ভুলের কথা জানিয়ে তাকে ফিরিয়ে না দিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে ভুলটি দেখিয়ে দেওয়া এবং কোথায় গিয়ে তা সংশোধন করতে হবে, সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া উচিত। এটিই মানবিকতা ও আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ।’

তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অবশ্যই বিধিবদ্ধ নিয়ম ও আইনের আওতায় দায়িত্ব পালন করতে হবে। তবে দায়িত্ব পালনের সময় নাগরিকের সঙ্গে মানবিক আচরণ করা হচ্ছে কি না, সেটিও আধুনিক রাষ্ট্র ও প্রশাসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

কর্মকর্তাদের পছন্দের পদে পদায়ন কিংবা পদোন্নতির জন্য পেশাগত দক্ষতা ও সততার সঙ্গে আপস না করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের যেকোনো স্থানে জনপ্রশাসনের যেকোনো পদে দায়িত্ব পালনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকাই চূড়ান্ত পেশাদারিত্বের পরিচয়। একটি সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, জনপ্রশাসনের কোনো পদও কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়।’

প্রশাসনে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত সমর্থন থাকাটা দোষের নয়। তবে সেই সমর্থনের প্রতিফলন ঘটতে হবে ব্যালট বাক্সে, সরকারি অফিসে নয়।’

বর্তমান সরকারও রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘তবে জনগণ নির্বাচনে ভোট দিয়ে যে ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে, সেটি এখন জনগণের ইশতেহার ও জনগণের দলিল। সেই ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রশাসনিক দায়িত্ব আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রশাসনে দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে সরকারি সেবা সহজ ও নাগরিকবান্ধব করার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইতিবাচক মানসিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে নবীন কর্মকর্তাদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।’

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!