তিনি বলেন, পাচার হওয়া অর্থ একাধিক দেশে স্থানান্তরিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অর্থ উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং-চীনসহ ১০টি দেশকে গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মতি মিলেছে। বাকি দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ১১টি অগ্রাধিকার মামলায় তদন্ত চলছে, যেখানে দুদক, সিআইডি, এনবিআর ও শুল্ক গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে যৌথ তদন্ত দল কাজ করছে।
তিনি জানান, আদালতের মাধ্যমে দেশে ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি টাকার সম্পদ এবং বিদেশে ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ বা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার সম্পদ সংযুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে ১৪১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টির চার্জশিট দাখিল এবং ৬টি মামলার রায় হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিং দমনে বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ ফিরিয়ে আনা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে অতীতের অর্থপাচারের ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

