এই উদ্ভিদ মানবদেহে চর্মরোগ, এলার্জি ও শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে। পাশাপাশি গবাদিপশুর ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক ক্ষতির সৃষ্টি করে। মুখ ও পাকস্থলীতে ঘা তৈরি এমনকি মৃত্যুও ঘটাতে পারে। কৃষিক্ষেত্রে পার্থেনিয়ামের প্রভাব আরও ভয়াবহ; এটি ফসলের উৎপাদন কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে এবং আশপাশের দেশীয় উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে।
এমন প্রেক্ষাপটে পার্থেনিয়ামের ক্ষতিকর দিক ও এর বিস্তার প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে সামাজিক, মানবিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন "স্বপ্নপুর"।
শনিবার (৪ এপ্রিল) মুকসুদপুর উপজেলার নওহাটা, ডুমুরিয়া ও মোচনা গ্রামের সংযোগস্থলে স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে এ সচেতনতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ডুমুরিয়া-কোটরীকান্দা সংযোগ সড়কের পাশ থেকে পার্থেনিয়াম অপসারণ করা হয়। এ সময় স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন "সুনজর" এর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
স্বপ্নপুরের সদস্য সমাজকর্মী নুর আলম এবং সংগঠনের অন্যতম উপদেষ্টা মারুফ হোসেন সর্দার পার্থেনিয়ামের ক্ষতিকর দিকগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
সংগঠনের মুখপাত্র মাহমুদ সিমান উপস্থিত স্থানীয় অধিবাসী, স্বপ্নপুর ও সুনজরের সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি পার্থেনিয়ামের প্রভাব, বিস্তার ও প্রতিরোধের উপায় নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পরিবেশ দূষণ রোধ, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে স্বপ্নপুরের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এ সময় সংলগ্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা প্লাস্টিক, পলিথিনসহ বিভিন্ন অপদ্রব্য পরিষ্কার করে পরিচ্ছন্নতা অভিযানও পরিচালনা করা হয়।
উল্লেখ্য, স্বপ্নপুর ২০১৬ সাল থেকে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় দেশব্যাপী ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে।
কালের সমাজ/কে.পি

