ঢাকা রবিবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২

প্রশাসন বলছে ‘কেবল জিজ্ঞাসাবাদ’ এলাকায় টানটান উত্তেজনা

জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁ | এপ্রিল ৫, ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম প্রশাসন বলছে ‘কেবল জিজ্ঞাসাবাদ’ এলাকায় টানটান উত্তেজনা

​​ভুক্তভোগী আসাদুজ্জামান কয়াভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং ‘রজনীগন্ধা ফাউন্ডেশন’-এর চেয়ারম্যান। তার অভিযোগ, তার নিজস্ব মালিকানাধীন জমি মাত্র ৫ কাঠা হলেও সংশ্লিষ্ট খতিয়ানের কারণে তাকে পুরো ৯ একর জমির খাজনা পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এই নিয়মকে ‘অযৌক্তিক’ দাবি করে বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে সচেতন করছিলেন তিনি।

​​আসাদুজ্জামানের দাবি, মাইকিং করার সময় তাকে জোরপূর্বক তুলে ইউএনও ইসরাত জাহান ছনি’র কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে চরমভাবে গালিগালাজ এবং শারীরিক লাঞ্ছনা করা হয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন—

​"ইউএনও মহোদয় আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে পেপারওয়েট ছুড়ে মেরেছেন। জনস্বার্থে কথা বলা কি আমার অপরাধ?"


​তবে মারধরের বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি। তার দাবি, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ওই ব্যক্তিকে কেবল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কার্যালয়ে আনা হয়েছিল। তার সাথে কোনো ধরনের অসদাচরণ করা হয়নি।

​​ঘটনাটি আইন বনাম অধিকারের এক লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:

​ লাউডস্পিকার ব্যবহারের জন্য স্থানীয় প্রশাসন বা থানার অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক।

​শব্দদূষণ বিধিমালা: অনুমতিহীন মাইকিং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

​জনদুর্ভোগ: দণ্ডবিধির ২৬৮ ও ২৯০ ধারা অনুযায়ী জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হলে প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারে।

​স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র কৌতূহল দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, খাজনা আদায়ের জটিলতা একটি বাস্তব সমস্যা, যা নিয়ে প্রতিবাদ করার অধিকার নাগরিকের রয়েছে। তবে মাইকিং করার ক্ষেত্রে আইন মেনে চলা উচিত ছিল। অন্যদিকে, অভিযোগ সত্য হলে একজন জ্যেষ্ঠ নাগরিকের ওপর প্রশাসনিক কর্মকর্তার এহেন আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

​ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং খাজনা আদায়ের অসংগতি দূর করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

 

কালের সমাজ/ কে.পি

Link copied!