ঢাকা রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২

রাজশাহীতে তেল নিচ্ছে মোটরসাইকেল সিন্ডিকেট

কালের সমাজ ডেস্ক | এপ্রিল ১২, ২০২৬, ১১:৪০ এএম রাজশাহীতে তেল নিচ্ছে মোটরসাইকেল সিন্ডিকেট

দেশে জ্বালানি তেলের সংকটকে পুঁজি করে রাজশাহী জেলা ও মহানগরীতে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী মোটরসাইকেল সিন্ডিকেট। তাদের দৌরাত্ম্যে পেট্রোল ও অকটেন সংগ্রহে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মোটরসাইকেল চালকরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকেই তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে দ্বিগুণ দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে তাদের।

অভিযোগ রয়েছে, সিন্ডিকেট সদস্যরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ চালকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন। রাজশাহী জেলা ও মহানগরীতে থাকা ৪৪টি ফিলিং স্টেশনকে কেন্দ্র করে তারা গড়ে তুলেছে সংগঠিত নেটওয়ার্ক। চার থেকে পাঁচশত যুবক এই সিন্ডিকেটে যুক্ত হয়েছেন।

তেল সরবরাহের আগের দিন দুপুর থেকেই সিন্ডিকেট সদস্যরা সংশ্লিষ্ট পাম্পের ভেতরে দেড় থেকে দুই শতাধিক মোটরসাইকেল রেখে দেন। এ কাজে তাদের সহযোগিতা করছেন পাম্পের নৈশপ্রহরীসহ স্থানীয় কিছু যুবক। ফলে সাধারণ চালকরা সিরিয়ালে থেকেও তেল পাচ্ছেন না।

অভিযোগ অনুযায়ী, পাম্পের কর্মচারীদের ‘উৎকোচ’ দিয়ে সিন্ডিকেট সদস্যরা দ্বিগুণ পরিমাণ তেল সংগ্রহ করছেন। পরে তারা বিভিন্ন পাম্পে ঘুরে একইভাবে তেল নিয়ে তা বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছেন। এ কাজে যুক্ত বেশিরভাগই কর্মহীন তরুণ, যারা প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মহানগরীর শালবাগান এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। তবে অধিকাংশ মালিক সেখানে উপস্থিত ছিলেন না; তারা মোটরসাইকেল রেখে বাড়ি চলে গেছেন।

স্থানীয় ইমাম হোসেন নামের এক ব্যক্তি পাম্পের ভেতরে তিনটি মোটরসাইকেল রাখার কথা স্বীকার করে জানান, এ কাজে তাকে স্থানীয় দুই যুবক সহায়তা করেছেন। পাম্পের কর্মচারীরাও স্বীকার করেছেন, শতাধিক মোটরসাইকেল স্থানীয় যুবকরাই এনে রেখেছেন।

হেতমখাঁ এলাকার বাসিন্দা জয় জানান, চাকরির প্রয়োজনে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কিলোমিটার মোটরসাইকেল চালাতে হয় তাকে। রাত ২টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সিন্ডিকেট সদস্যের কাছ থেকে প্রতি লিটার পেট্রোল ২৫০ টাকায় কিনতে বাধ্য হয়েছেন।

পবা উপজেলার নওহাটার একটি ফিলিং স্টেশনেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে পাম্পের ভেতরে মোটরসাইকেল রাখতে নৈশপ্রহরীকে প্রতি গাড়ির জন্য ৫০ টাকা করে দিতে হয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় জাহিদ ইসলাম। তার দাবি, সিন্ডিকেট সদস্যরা পরে এসব তেল দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছেন।

স্থানীয় দেলোয়ার হোসেন ও মাহবুব হোসেন জানান, তারা গত এক মাসে একাধিকবার সিন্ডিকেটের কাছ থেকে ২৭০ টাকা লিটার দামে অকটেন কিনতে বাধ্য হয়েছেন।

মহানগরীর একটি পাম্পে গ্রাহকদের প্রতিবাদের মুখে ভেতরে মোটরসাইকেল রাখা বন্ধ করা হয়েছে। তবে অন্যান্য পাম্পে এখনো একই অবস্থা বিরাজ করছে। বুধবার রাত ও বৃহস্পতিবার সকালেও বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

রাজশাহীর তানোর, পুঠিয়া, বাগমারা ও গোদাগাড়ীসহ বিভিন্ন উপজেলায়ও একই কৌশলে তেল সংগ্রহ করছে সিন্ডিকেট। বাগমারার এক বাসিন্দা নাজিম আলম জানান, পথে তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় তাকে স্থানীয় বাজার থেকে প্রতি লিটার ৩০০ টাকায় পেট্রোল কিনতে হয়েছে।

পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি মনিমুল হক বলেন, পাম্প মালিকরা এ ঘটনায় জড়িত নন। কিছু ক্ষেত্রে দুর্বল ব্যবস্থাপনার সুযোগ নিয়ে কর্মচারী বা নৈশপ্রহরীরা সুবিধা নিতে পারেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরদার নজরদারি জরুরি।

 

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!