ঢাকা রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কমিউনিটি ক্লিনিকে মিলছেনা ঔষধ ভোগান্তিতে নিম্ন আয়ের মানুষ

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা | মে ২৩, ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম কমিউনিটি ক্লিনিকে মিলছেনা ঔষধ ভোগান্তিতে নিম্ন আয়ের মানুষ

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন পর্যায়ে গড়ে তোলা হয়েছিল কমিউনিটি ক্লিনিক। স্বল্প খরচে চিকিৎসা ও বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়ার সুযোগ থাকায় গ্রামীণ মানুষের কাছে এসব ক্লিনিক দীর্ঘদিন ধরে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছিল। কিন্তু ওষুধ সংকট ও বরাদ্দ ঘাটতির কারণে প্রান্তিক ও নিম্ন  আয়ের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ফলে সাধারণ রোগীরা ক্লিনিকে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন এবং অনেককে বাধ্য হয়ে বাজার থেকে বাড়তি খরচে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।
 

লাকসাম উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১৬টি কমিউনিটি ক্লিনিকে গত চার-পাঁচ মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্ন  আয়ের মানুষ, যারা বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবার ওপর নির্ভরশীল। ওষুধ সংকটে তারা এখন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ওষুধ না থাকায় রোগীও নেই একবারে, ফলে তালা ঝুলছে বেশিরভাগ কমিউনিটি ক্লিনিকে। সব মিলিয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর কার্যক্রম। তাই দ্রুত কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করে সেবা স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন এলাকার ভুক্তভোগীরা।
 

সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্লিনিকেই নেই প্রয়োজনীয় কোনো ওষুধ। ফলে প্রতিদিন রোগীরা এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। কোন কোন ক্লিনিকে দায়িত্বরত সিএইচসিপি রোগীদের কেবল মৌখিক পরামর্শ দিয়ে বিদায় করছেন। কবে নাগাদ ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারছেন না তারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ওষুধ না থাকায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে ক্লিনিকগুলো। আগে যেখানে জ্বর, সর্দি-কাশি, আমাশয়সহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা ও ওষুধ পাওয়া যেত, এখন সেখানে সেবা মিলছে না।
 

ওষুধ নিতে আসা হানিফ বলেন, এ কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে আগে ভালো সেবা পেতাম। এখন ওষুধ না থাকায় বারবার এসে ফিরে যেতে হচ্ছে। একই অভিযোগ রহিমা বেগমেরও, গরিব মানুষের জন্য এই ক্লিনিকগুলো খুবই জরুরি। ওষুধ না থাকায় আমাদের কষ্ট বাড়ছে। সামছুর নাহার নামের এক রোগী বলেন, আমরা গরিব মানুষ, বাইরে থেকে টাকা দিয়ে ওষুধ কেনা সম্ভব না। আগে এখানে বিনামূল্যে ওষুধ পেতাম, এখন কিছুই পাওয়া যায় না।
 

পৈশাগী কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি আবু বকর মাসুম বলেন, প্রায় চার-পাঁচ মাস হয়ে গেছে ক্লিনিকগুলোতে ওষুধের সরবরাহ নাই। কয়েকটি আয়রন ট্যাবলেট, কৃমিনাশক ট্যাবলেট ও কয়েকটি ভিটামিন বি কমপ্লেক্স আমার ক্লিনিকে রয়েছে। অধিকাংশ রোগীরা তাদের প্রয়োজনীয় ঔষধ পাচ্ছেন না। তবে খুব শীঘ্রই হয়ত এ পরিস্থিতি কেটে যাবে। 
 

এলাইচ কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি তাছলিমা আক্তার জানান, যে পরিমাণ ওষুধ দেওয়া হয়, তা দিয়ে সর্বোচ্চ দুই থেকে তিন মাস কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন করে আর ওষুধ পৌঁছেনি। আমার ক্লিনিকে যে ঔষধ আছে তা হয়তো ২০ দিন চলবে। নিয়মিত রোগিদের স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অধিক চাহিদা সম্পন্ন রোগীদের হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজিয়া বিনতে আলম দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, উপজেলায় ১৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে, গত ছয় মাসের মধ্যে ২ মাসে কিছু ঔষধ পেয়েছি। বর্তমানে এসব ক্লিনিকে ঔষধ স্বল্পতা রয়েছে। ফলে সাধারণ রোগীরা সরকারি স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি।
ছবি : রোগী শূন্য লাকসাম পূর্ব ইউনিয়নের এলাইচ কমিউনিটি ক্লিনিক।  

কালের সমাজ/কে.পি
 

Link copied!