ঢাকা রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাগমারা বাজার অংশে ১৮৫ কোটি টাকার ভূমি অধিগ্রহণ অনুমোদন

কালের সমাজ ডেস্ক | মে ২৩, ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম বাগমারা বাজার অংশে ১৮৫ কোটি টাকার ভূমি অধিগ্রহণ অনুমোদন

বহুল প্রতীক্ষিত কুমিল্লা (টমছমব্রীজ)-নোয়াখালী (বেগমগঞ্জ) আঞ্চলিক মহাসড়ক ৪-লেনে উন্নীতকরণ (১ম সংশোধন) প্রকল্পের আওতায় কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা বাজার অংশে ভূমি অধিগ্রহণের প্রাক্কলন অনুমোদন করা হয়েছে। 

এল.এ মামলা নং-১৯/২০২১-২০২২ মূলে উপজেলার ২৬ নং সৈয়দপুর এবং ৩৪ নং উত্তর অশ্বথতলা মৌজার বিভিন্ন দাগে ৪.২৩০০ একর ভূমি, অবকাঠামো, বৃক্ষ ও ব্যবসায়িক ক্ষতিপূরণ বাবদ সর্বসাকুল্যে ১৮৫ কোটি ৭৮ লক্ষ ২২ হাজার ৩২৫ টাকা ৬৬ পয়সার এই প্রাক্কলন অনুমোদন লাভ করে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের স্মারকসূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা গেছে।

এই প্রাক্কলন অনুমোদনে কুমিল্লা-৬ নির্বাচনী এলাকার মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনিরুল হক চৌধুরী সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। এদিকে ভূমি অধিগ্রহণের এই প্রাক্কলন অনুমোদন ও বাস্তবায়নে বিশেষ অবদান রাখায় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনিরুল হক চৌধুরীকে লালমাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ মাসুদ করিম ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইউসুফ আলী মীর এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

প্রকল্পের অর্থায়ন পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের পরিচালন কার্যক্রমের অর্থনৈতিক কোড-৪১৪১১০১ (ভূমি অধিগ্রহণ উপখাত)-এ বরাদ্দকৃত ১৬০.০০ কোটি টাকা থেকে ইতিমধ্যে একটি বড় অংশ ব্যয় হয়েছে। তবে বাগমারা বাজার অংশের বর্তমান প্রাক্কলন ব্যয় ১৮৫.৭৮ কোটি টাকা হওয়ায় এবং পূর্বের বরাদ্দ শেষ হয়ে আসায় এই মুহূর্তে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

অর্থের সার্বিক প্রয়োজনীয়তা নিরূপণে এ পর্যন্ত এই খাতে ঠিক কত টাকা ব্যয় হয়েছে, তার সঠিক তথ্য প্রেরণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে। অর্থ বিভাগের কাছ থেকে অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে দ্রুতই ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে এই ক্ষতিপূরণের অর্থ বিতরণ প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপকালে জানা যায়, গত ৫ই আগস্টের পূর্বে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই মহাসড়কের মূল এলাইনমেন্ট (নকশা) পরিবর্তন করে রেললাইনের পাশ দিয়ে নতুন এলাইনমেন্ট তৈরি করা হয়েছিল। এতে বাগমারা বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ চরম ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ার ঝুঁকিতে ছিলেন। ৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর জোরালো উদ্যোগে সেই বিতর্কিত ও জনস্বার্থবিরোধী নকশা বাতিল করা হয়।

পটপরিবর্তনের পর বাগমারা বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এমপি মনিরুল হক চৌধুরী এই সমস্যা সমাধানের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের রমজান মাসে এই দাবিতে লালমাই উপজেলা বিএনপি ও সকল অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে বাগমারা বাজারে একটি বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়, যা স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে জোরালোভাবে উঠে আসে। এর পরিপ্রক্ষিতে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রকল্পটির ত্রুটি সংশোধনে পুনরায় কাজ শুরু করে এবং অবশেষে এই বিশাল অঙ্কের ভূমি অধিগ্রহণ প্রাক্কলন অনুমোদন পায়।

বাগমারা বাজার অংশের এই গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও ভূমি অধিগ্রহণ অনুমোদন প্রক্রিয়ায় এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর গতিশীল ও জোরালো ভূমিকার তীব্র প্রশংসা করেছেন লালমাই উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

লালমাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইউসুফ আলী মীর পিন্টু বলেন ,এই আঞ্চলিক মহাসড়কটি ৪-লেনে উন্নীত হলে সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক অভূতপূর্ব ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে বাগমারা বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনগণ দীর্ঘদিন ধরে যে আশঙ্কায় ছিলেন, তার অবসান ঘটলো। জনস্বার্থে এই বিশাল অঙ্কের প্রাক্কলন অনুমোদনে গতিশীল ভূমিকা রাখায় আমরা সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনিরুল হক চৌধুরীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!