ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই, ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

সরাইলে টানা ৩ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের শান্তির আভাস

জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া | জুলাই ১, ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম সরাইলে টানা ৩ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের  শান্তির আভাস

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দি ও ধর্মতীর্থ গ্রামের মধ্যে টানা তিন দিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর অবশেষে শান্তির আভাস দেখা দিয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ সংঘর্ষ বন্ধে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। এর ফলে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কে পুনরায় যান চলাচল শুরু হয়েছে।
 

জানা যায়, গত রোববার সন্ধ্যায় পাওনা টাকা নিয়ে সূর্যকান্দি গ্রামের মোশাররফ হোসেন ও ধর্মতীর্থ গ্রামের হাদিম মিয়ার মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে দুই গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রাত সাড়ে ৭টার দিকে শুরু হওয়া ওই সংঘর্ষে ধর্মতীর্থ গ্রামের বাসিন্দা হাদিম মিয়া (৫৫) নিহত হন। পরদিন সোমবার নিহতের দাফন শেষে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় কালীকচ্ছ বাজারের কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। মঙ্গলবার সকালেও দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান করলে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত ৩০ জন আহত হন। সংঘর্ষের কারণে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরাইল-আশুগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম, সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল কাদের ভূঁইয়াসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। কালীকচ্ছ বাজারের অধিকাংশ দোকানপাটও বন্ধ হয়ে যায়।
 

পরিস্থিতির অবনতি হলে মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে যান জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। তিনি উভয় পক্ষের মুরুব্বি ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। আলোচনার পর দুই পক্ষ থেকে পাঁচজন করে মোট ১০ জন প্রতিনিধি সংঘর্ষ বন্ধে দায়িত্ব নেন এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সহিংসতায় জড়াবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। বৈঠক শেষে জেলা পরিষদ প্রশাসক নিহত হাদিম মিয়ার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং গভীর সমবেদনা জানান। তিনি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি গ্রামবাসীর সহযোগিতা পেলে স্থায়ীভাবে এই বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
 

স্থানীয়দের মতে, প্রশাসকের উদ্যোগে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। দীর্ঘ তিন দিনের উত্তেজনা ও সহিংসতার পর বাজারে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসছে এবং সড়কেও যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!