ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

আমতলীতে কাজ শেষ হওয়ার আগেই দেবে গেল ৩০০ ফুট সড়ক

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি | আগস্ট ৬, ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম আমতলীতে কাজ শেষ হওয়ার আগেই দেবে গেল ৩০০ ফুট সড়ক

বরগুনার আমতলী উপজেলার আমতলী—গাজীপুর আঞ্চলিক সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের দুটি স্থানে অন্তত ৩০০ ফুট অংশ দেবে গেছে। কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ না করা এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাঁরা এ ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আমতলী—গাজীপুর আঞ্চলিক সড়কের আমতলী থেকে তালুকদার বাজার পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার অংশের পুনর্র্নিমাণ ও সম্প্রসারণের জন্য ২০২৩—২৪ অর্থ বছরে দরপত্র আহ্বান করে বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশল বিভাগ। পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ের কাজটির কার্যাদেশ পায় রাজশাহীর বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে স্থানীয় চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান বাদল খাঁন সাব—কন্ট্রাক্টে সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু করেন। গত দুই বছর ধরে সড়কটির কাজ চলছে।

আমতলী—গাজীপুর সড়কের কালীবাড়ী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের দুটি স্থানে অন্তত ৩০০ ফুট অংশ মারাত্মকভাবে দেবে গেছে। ভাঙা ও দেবে যাওয়া অংশে বড় বড় ফাটল ধরেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে বাঁশ পুতে লাল কাপড় টাঙিয়ে রেখেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন ও শহীদুল ইসলাম বলেন, শুরু থেকেই নিম্নমানের বিটুমিন ও পাথর ব্যবহারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করা হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো কান দেয়নি। কাজের মান তদারকি না করায় আজ এই পরিণতি।
যোগাযোগ করা হলে সাব—ঠিকাদার আখতারুজ্জামান বাদল খাঁন সড়ক দেবে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, কাজটি এখনো হস্তান্তরিত হয়নি, কাজ চলছে। যেখানে দেবে গেছে, সেখানে আবার নতুন করে কাজ করে দেওয়া হবে।
আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মূলত সড়কটি খালের পাশ দিয়ে যাওয়ার কারণে মাটির বাঁধ ধসে এমনটি হয়েছে। ঠিকাদারকে দ্রুত দেবে যাওয়া অংশ পুনর্র্নিমাণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, বিষয়টি জেনেছি। দেবে যাওয়া অংশ প্রাক্কলন অনুযায়ী পুনর্র্নিমাণ না করা পর্যন্ত ঠিকাদারের কোনো বিল ছাড় করা হবে না।
বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!