নেপাল-তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা, পাহাড়ধস ও তুষারধসে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৯৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটক রয়েছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সংঘটিত এই দুর্যোগে রাস্তা, সেতু, ঘরবাড়ি ও একাধিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, হঠাৎ পাহাড় থেকে মাটি ও পলির বিশাল স্রোত নেমে এসে মুহূর্তের মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকা ঢেকে ফেলছে। প্রাণ বাঁচাতে অনেক মানুষকে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করতেও দেখা যায়।
নেপালের পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগের পর ৪০৩ জনের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের মধ্যে ৬১ জন নেপালি এবং ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। বিদেশিদের মধ্যে ভারতীয়, মার্কিন ও ব্রিটিশ নাগরিকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। নিখোঁজ ব্যক্তিরা প্রায় ২৬টি দেশের নাগরিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে ২০০ জন নারী ও ২০৩ জন পুরুষ।
অন্যদিকে পর্যটন বোর্ডের আরেক হিসাবে বন্যাকবলিত এলাকা থেকে ৩৮৪ পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি। বিদেশি নিখোঁজদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ভোতে কোশি নদীর প্রবল স্রোতে নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। নেপালি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে নেমে আসা পানির প্রবল স্রোতের সঙ্গে ভূমিধস ও পাহাড়ধস পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তোলে।
রাসুয়া জেলা প্রশাসন পরিস্থিতিকে দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজদের উদ্ধারে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
নেপালের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও এই দুর্যোগে নিখোঁজ হয়েছেন। রাসুয়া জেলায় নেপাল পুলিশের অন্তত ২৬ সদস্যের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীরও সাত সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নেপাল সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ও বিশেষ দুর্যোগ মোকাবিলা দল মোতায়েন করেছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র সংগ্রহের পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।
কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিজন ভক্ত কায়স্থের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একটি বরফধসের কারণে লেন্দে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। পরবর্তী সময়ে সেই পানি উপচে ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা তৈরি করে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্তের তিব্বত অংশের জিরং এলাকাতেও ভূমিধসের প্রভাব পড়েছে। এতে শিগাতসে অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছে।
দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই জানিয়েছে, এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি। ফলে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল দেশটির পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, ওই এলাকায় ভূমিকম্পের পর তুষারধস বা পাহাড়ধসের সূত্র ধরে বন্যার সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তবে দুর্যোগের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে আরও তদন্ত প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

