দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো ও বিমানবাহিনীকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে চীন থেকে ২০টি জে-১০সিই মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট কেনার উদ্যোগ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যুদ্ধবিমান সংগ্রহে সম্পূরক ব্যয়সহ মোট প্রায় ২ দশমিক ৩০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২৮ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। এ বিষয়ে গঠিত আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি ইতোমধ্যে চুক্তির খসড়া প্রস্তুত করেছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সিএটিআইসির সঙ্গে সরকার-থেকে-সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে চুক্তি করার কথা রয়েছে। এ ব্যয় মেটাতে ২০৩৫-৩৬ অর্থবছর পর্যন্ত ১০ বছরের বিশেষ থোক বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০টি যুদ্ধবিমানের মধ্যে ১০টি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর মূল বহরে যুক্ত হবে। অপর ১০টি অতিরিক্ত হিসেবে রাখা হবে।
জানা গেছে, প্রতিটি জে-১০সিই যুদ্ধবিমানের মূল মূল্য প্রায় ৬২ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার। তবে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, লজিস্টিক সহায়তা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও করসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় যুক্ত হওয়ায় প্রতিটি বিমানের কার্যকর ব্যয় প্রায় ১১৫ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়াতে পারে।
যুদ্ধবিমান কেনার মূল ব্যয়ের বাইরে বৈমানিক ও প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ এবং লজিস্টিক সহায়তার জন্য প্রায় ৮৮৮ মিলিয়ন ডলার এবং ভ্যাট, বিমা ও পূর্তকাজে আরও ১৫৮ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের হিসাব করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতে জে-১০সি যুদ্ধবিমান কার্যকর সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। তুলনামূলক কম ব্যয়ে আধুনিক প্রযুক্তি পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিমানটি বেছে নেওয়া হয়েছে।
চীনে তৈরি এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট জে-১০সিই একটি সুপারসনিক ৪.৫ প্রজন্মের বহুমুখী যুদ্ধবিমান। এটি আকাশ, স্থল ও সমুদ্রের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে। পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়াতে অ্যাটাক হেলিকপ্টার ও ইউএভি ড্রোন ব্যবস্থাও সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, জে-১০সিই বহরে যুক্ত হলে বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। তবে বড় ধরনের সামরিক সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও বিভিন্ন বিশ্বশক্তির সঙ্গে কৌশলগত ভারসাম্যের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

