ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ মানবজাতির জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী

কালের সমাজ ডেস্ক | আগস্ট ২৫, ২০২৬, ১০:০৮ পিএম মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ মানবজাতির জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশের সর্বস্তরের মুসলমানসহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও কর্ম মানবজাতির জন্য চিরকাল অনুসরণীয় আদর্শ ও পথনির্দেশ হয়ে থাকবে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাণীতে তারেক রহমান বলেন, মহানবী (সা.)-এর পৃথিবীতে আগমন মানবসভ্যতার ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। তাঁর মাধ্যমে মানুষের সামনে সত্য, ন্যায় ও আলোর পথ উন্মোচিত হয়েছে। তাওহিদের আহ্বানের পাশাপাশি তিনি মানবজাতিকে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, ন্যায়বিচার, শান্তি ও মানবিকতার শিক্ষা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ছিল পবিত্র কোরআনের শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন। সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়পরায়ণতা, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রে তাঁর জীবন অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও সামাজিক অবস্থানের পার্থক্য ভুলে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর মহানবী (সা.) গুরুত্ব দিয়েছেন। এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা এবং পরিবার, প্রতিবেশী, নারী ও শিশুর অধিকার রক্ষার বিষয়েও তিনি বিশেষ শিক্ষা দিয়েছেন।

বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন সংকটের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, যুদ্ধ, সংঘাত, সহিংসতা, বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতার কারণে বিশ্বজুড়ে মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, ক্ষমা, সহমর্মিতা ও মানবিকতার শিক্ষা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।

তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়বোধ, দায়িত্বশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। এর মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার পথ সুগম হবে।

তরুণ প্রজন্মের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস, উগ্রতা ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হতে পারে। তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে তরুণরা সত্য, ন্যায়, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের পথে এগিয়ে যেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা শুধু ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য নয়, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ও ন্যায়বোধকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

বাণীর শেষে প্রধানমন্ত্রী মহান আল্লাহর কাছে মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণের তাওফিক কামনা করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে শান্তি, ন্যায়, সাম্য, সমৃদ্ধি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রার্থনা জানান। তিনি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!