ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

ছয় মাসে ২ কোটির বেশি গাছ রোপণ করেছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক | আগস্ট ২৬, ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম ছয় মাসে ২ কোটির বেশি গাছ রোপণ করেছে সরকার

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ছয় মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ২ কোটি ২২ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি গাছের চারা রোপণ করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়ন বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রশাসনের নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতি বছর ৫ কোটি ১৪ লাখ ৮৮ হাজার ৯৩০টি চারা রোপণের লক্ষ্য রয়েছে। সরকারি হিসাব বলছে, গত ছয় মাসেই বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৪৩ দশমিক ২৫ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বন বিভাগসহ মোট ১১টি সরকারি সংস্থা এ কর্মসূচিতে যুক্ত রয়েছে।

বৃক্ষরোপণে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে বন অধিদপ্তর। সংস্থাটির উদ্যোগে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৪৪২টি চারা রোপণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। তাদের মাধ্যমে রোপণ করা হয়েছে ৭১ লাখ ৬৪ হাজার ১৩৫টি চারা।

এ ছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন বিভাগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও গৃহায়ন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগেও ব্যাপক পরিসরে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।

অঞ্চলভেদে পরিবেশ ও মাটির বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে গাছের প্রজাতি নির্বাচন করা হচ্ছে। পার্বত্য এলাকায় গর্জন, চাপালিশ, সেগুন ও বাঁশের মতো প্রজাতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে কেওড়া, বাইন ও ঝাউয়ের মতো ম্যানগ্রোভ ও উপযোগী গাছ লাগানো হচ্ছে। অন্যদিকে হাওর, বিল ও জলাভূমি এলাকায় হিজল, কদম ও করচের মতো গাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ জানান, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমেও প্রায় ৪০ লাখ গাছ লাগানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, উপকূলীয় এলাকা সুরক্ষায় আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের মধ্যে আরও ২ কোটি ম্যানগ্রোভ চারা রোপণের একটি পৃথক প্রকল্প চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

সরকারের সংশ্লিষ্টদের আশা, চলমান কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে নির্ধারিত সময়ের আগেই বার্ষিক বৃক্ষরোপণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং তা ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি ব্যাপক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা ও দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা যাবে।

Link copied!