ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

শ্রীপুরে গড়াই নদীর ভাঙনের মুখে বেড়িবাঁধ, ঝুঁকিতে ৫০০ পরিবার

এস আর এ হান্নান, মহম্মদপুর (মাগুরা) | সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম শ্রীপুরে গড়াই নদীর ভাঙনের মুখে বেড়িবাঁধ, ঝুঁকিতে ৫০০ পরিবার

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার আমলসার ইউনিয়নের কোদলা গ্রামে গড়াই নদীর ভয়াবহ রূপ দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনের তীব্র স্রোত ও অব্যাহত ভাঙনে ইতোমধ্যে প্রায় ১০ একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের ধারা অব্যাহত থাকায় আরও অন্তত ২০ একর কৃষিজমি তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে। এর পাশাপাশি পুরো গ্রামকে রক্ষাকারী একমাত্র প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধটিও এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, অতি দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বেড়িবাঁধটির অবশিষ্ট অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এতে কোদলা গ্রামের অন্তত ৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নদী ভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো।

 চোখের সামনে বছরের পর বছর চাষ করা স্বপ্ন আর উপার্জনের শেষ সম্বল নদীতে বিলীন হতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অনেকে। বর্তমানে ভাঙন বেড়িবাঁধের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে এবং বাঁধের বেশ কিছু অংশে অলরেডি ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। এই গ্রামের মোকাররম আলী উদ্বেগের সঙ্গে বলেন, ‘নদীর পাড়েই আমার ঘর। ভাঙতে ভাঙতে নদী এখন বাঁধের কাছে। আর দুই হাত ভাঙলেই আমাদের ভিটেমাটি শেষ।’ অন্যদিকে অনিতা রাণী নামে অপর এক বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, ‘৩৫ বছর ধরে এই গ্রামে আছি। চোখের সামনে ধানক্ষেত, খেলার মাঠ সব নদীতে গেল। এখন আবার নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে।’ 

রাত নামলেই নদীপাড়ের পরিবারগুলোর ঘুম হারাম হয়ে যায় বলে জানান স্থানীয় গৃহিণী নাসিমা বেগম। এলাকাবাসীর দাবি, লোক দেখানো বা অস্থায়ী বালুর বস্তা না ফেলে দ্রুত জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের পাশাপাশি নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, “গড়াইয়ের কয়েকটি পয়েন্টে ইতোমধ্যে জিওব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। কোদলা এলাকার নতুন ভাঙনের বিষয়টি জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্যকে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে সমন্বিত চেষ্টা চলছে।” মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) সন্তোষ কর্মকার বলেন, “বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!