সারা দেশে যখন চলছে নির্বাচনি উত্তাপ, তখন সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দেখা গেল ভিন্ন এক রাজনৈতিক চিত্র। প্রতিদ্বন্দ্বি দল জামায়াতে ইসলামীর জনসভা শেষে সাতক্ষীরা-৪ আসনের প্রার্থী ড. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে মাঠজুড়ে পড়ে থাকা পলিথিন, খাবারের প্যাকেট ও কাগজের বর্জ্য পরিষ্কার করলেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।
এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। রাজনীতির প্রতিযোগিতার মাঝেও উঠে এসেছে দায়িত্বশীলতার নতুন এক বার্তা।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর সরকারি হরিচরণ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. মো. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে এ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি মাঠের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে অপসারণ করেন।
বিএনপি নেতা সোলায়মান কবির জানান, শনিবার দুপুরে নকিপুর সরকারি হরিচরণ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে জামায়াতে ইসলামের নির্বাচনি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভা শেষে মাঠজুড়ে পড়ে থাকে পলিথিন, খাবারের মোড়ক, প্যাকেট ও বিভিন্ন-কাগজ, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশ ও সৌন্দর্য্য নষ্ট করছিল। তাই পরদিন বিএনপি নেতাকর্মীরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে মাঠ পরিষ্কারে অংশ নেন। এটাকে রাজনৈতিক ও সামাজিক সৌজন্যতা বলে উল্লেখ করেছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. মনিরুজ্জামান।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলাকালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি যেই দলেরই হোক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ পরিষ্কার রাখা সবার দায়িত্ব। আগামীকাল সোমবার একই মাঠে আমাদের নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। আমরা চাই একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে আমাদের কর্মসূচি হোক। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, কিন্তু জনস্বার্থ ও শৃঙ্খলার প্রশ্নে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
ঘণ্টাব্যাপী এ অভিযানে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মাঠের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
পরিচ্ছন্নতা শেষে মাঠে শুরু হয় বিএনপির সমাবেশ ঘিরে প্রস্তুতি—ইতোমধ্যে মঞ্চ নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় আয়োজনের কাজ চলতে দেখা গেছে।
এদিকে, আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে একই মাঠে বিএনপির নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই সমাবেশকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সব রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, তীব্র নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও এমন উদ্যোগ রাজনীতিতে ইতিবাচক বার্তা দেয় এবং পারস্পরিক সহনশীলতার নতুন উদাহরণ তৈরি করে।
কালের সমাজ/এসআর


আপনার মতামত লিখুন :