দীর্ঘ ১৭ বছর পর সাতক্ষীরা জেলায় বড় ধরনের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা বেসরকারি ফলাফলে বিজয় অর্জন করেছেন। বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শেষ পর্যন্ত এগিয়ে থাকেন ১১-দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াত প্রার্থীরা।
বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, সাতক্ষীরা-১ (তালা–কলারোয়া) আসনে নির্বাচিত হয়েছেন মো. ইজ্জত উল্লাহ। সাতক্ষীরা-২ (সদর–দেবহাটা) আসনে জয় পেয়েছেন মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি–কালিগঞ্জ) আসনে নির্বাচিত হয়েছেন মুহাদ্দিস রবিউল বাসার এবং সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর ও কালিগঞ্জের একাংশ) আসনে বিজয়ী হয়েছেন জি এম নজরুল ইসলাম।
নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই জেলার ৬০৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রায় ১৮ লাখ ৩২ হাজার ৭৭৫ জন ভোটারের এই জেলায় দীর্ঘ সময় পর অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
ফলাফল ঘোষণার পর জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে বিজয় মিছিল বা স্লোগানের পরিবর্তে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। দলটির কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী কোথাও প্রকাশ্য উদযাপন না করে বিভিন্ন স্থানে আল্লাহর দরবারে শোকরানা আদায় করতে দেখা যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাতক্ষীরা ঐতিহাসিকভাবে জামায়াতের একটি শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলায় একাধিক আসনে দলটির সাফল্যের নজির রয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর এবারের নির্বাচনে সংগঠিত প্রচারণা, তৃণমূলভিত্তিক শক্ত অবস্থান এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ রাজনৈতিক কর্মকৌশলের কারণেই চারটি আসনেই দলটি সাফল্য পেয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :