টলিউড ও বলিউডের প্রখ্যাত অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর জন্মদিনে তাকে নিয়ে একান্ত কিছু স্মৃতিকথা শেয়ার করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ‘মৃগয়া’ খ্যাত এই জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেতার সঙ্গে দেবশ্রীর প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল। পরবর্তীতে ‘নদী থেকে সাগরে’ সিনেমায় মিঠুন চক্রবর্তীর বিপরীতে নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেন তিনি। এটিই ছিল মিঠুনের প্রথম বাংলা সিনেমা।
সিনেমার সেটের এক মজার স্মৃতি রোমন্থন করে দেবশ্রী জানান, শুটিংয়ের সময় হঠাৎ তার শাড়ি খুলে গেলে মিঠুন চিৎকার করে দেবশ্রীর মাকে ডেকে বলেছিলেন, ‘মাসিমা, শিগগির এসো! তোমার মেয়ে শাড়ি খুলে দাঁড়িয়ে আছে।’ শুটিং সেটে মিঠুন চক্রবর্তী সারাক্ষণ দুষ্টুমি ও হই-হুল্লোড় করে সবাইকে মাতিয়ে রাখতেন। ‘এমএলএ ফাটাকেষ্ট’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় দেবশ্রীর কাঁধে নকল সাপ ফেলে তাকে চরম ভয় পাইয়ে দিয়েছিলেন মিঠুন, যা নিয়ে পুরো রামোজি ফিল্ম সিটিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল।
পারিবারিক সম্পর্কের গভীরতা উল্লেখ করে দেবশ্রী জানান, তারা দুজনে একই গুরুর কাছ থেকে দীক্ষা নেওয়ায় তারা আসলে ‘গুরুভাই’। মিঠুন কলকাতা এলে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি দেবশ্রীর বাড়িতে চলে আসতেন। এমনকি কিছুদিন আগে ‘শাস্ত্রী’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় অসুস্থ হলে দেবশ্রীর ধমক ও পরামর্শ মেনে চলেছিলেন মিঠুন।
তবে এই গুণী অভিনেতাকে নিয়ে দেবশ্রীর মনে একটি বড় আক্ষেপ রয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে মানুষটি মুম্বাই ইন্ডাস্ট্রিতে এক নম্বর বাঙালি নায়ক হিসেবে আন্তর্জাতিক খ্যাতি পেয়েছেন, তাকে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ব্রাত্য রাখা হয়েছিল। রাজনৈতিক মতাদর্শ যাই হোক না কেন, বাংলার এই সন্তানকে রাজ্য সরকার উপযুক্ত সম্মান না দিলেও তিনি জাতীয় স্তরে ‘পদ্মভূষণ’ ও ‘দাদাসাহেব ফালকে’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। মিঠুন চক্রবর্তীর এই চিরসবুজ প্রাণশক্তি ও সাফল্য চিরকাল অটুট থাকুক—জন্মদিনে এই কামনাই করেছেন দেবশ্রী রায়।
কালের সমাজ//আরআই

