১৫ বছরের দীর্ঘ সংসার, কত হাসি-কান্না, অভিমান আর অভিযোগের পাহাড়। সব শেষে বুকভরা অভিমান নিয়েই পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরা। তবে চিরতরে চলে যাওয়ার বেলায় সবচেয়ে বড় আক্ষেপটা হয়তো থেকেই গেল—একমাত্র সন্তান রিজিকের মুখটা শেষবারের মতো দেখা হলো না তার। মায়ের নিথর দেহ মর্গে পড়ে থাকলেও, তাকে শেষ বিদায় জানাতে আনা হয়নি আদরের সন্তানকে।
ইকরার মৃত্যুর পর থেকেই হাসপাতালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। মর্গে পড়ে আছে ইকরার নিথর দেহ, কিন্তু আলভীর পরিবারের কোনো সদস্যেরই দেখা মেলেনি। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, ইকরার নাড়িছেঁড়া ধন, একমাত্র সন্তান রিজিককেও আনা হয়নি মায়ের কাছে। ইকরার পরিবারের পক্ষ থেকে আলভীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, “আসতেছি, একটু পরেই রওনা হচ্ছি। এক ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যাব।” কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের কেউ হাসপাতালে আসেননি, এমনকি মাকে শেষবারের মতো দেখতে দেওয়া হয়নি সন্তানকেও।
স্ত্রীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরেও স্বামী যাহের আলভী এখনো দেশে পৌঁছাতে পারেননি। জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের নাটকের শুটিংয়ে নেপালে ছিলেন তিনি। হঠাৎ করে ফ্লাইটের টিকিট না পাওয়ার কারণে সঙ্গে সঙ্গে দেশের উদ্দেশে রওনা হতে পারেননি তিনি। তবে আজ রোববার দুপুরের ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে তার রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।
ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে ইকরার মরদেহ তার নিজ গ্রাম ময়মনসিংহের ভালুকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ইকরার খালুর দেওয়া তথ্যমতে, আনুমানিক দুপুর ২টার দিকে মর্গ থেকে ভালুকার রানদিয়া গ্রামের উদ্দেশে রওনা হবে পরিবার। সেখানেই নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে এই হতভাগী মায়ের দাফন সম্পন্ন হবে।
২০১০ সালের ৯ নভেম্বর ভালোবেসে পালিয়ে ইকরাকে বিয়ে করেছিলেন জাহের আলভী। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০২৪ সালে তাদের বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। কিন্তু এই দীর্ঘ পথচলার সমাপ্তি হলো একরাশ হতাশা আর ক্ষোভের মধ্য দিয়ে। মৃত্যুর আগে ফাঁস হওয়া মেসেঞ্জার চ্যাটে ইকরা অভিযোগ করেছিলেন, আলভীর এক সহ-অভিনেত্রীর (তিথি) সঙ্গে পরকীয়া এবং স্বামীর চরম অবহেলাই তাকে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করে তুলেছিল। সন্তানের কথা ভেবে বারবার সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি। দিনশেষে সেই সন্তানের সঙ্গেই আর শেষ দেখা হলো না মা ইকরার।
কালের সমাজ/এসআর

