আমেরিকা-ইরানের মধ্যকার চলমান ছয় সপ্তাহের সংঘাত এখন এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ মঙ্গলবার শেষ হচ্ছে। তবে, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকেই যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। বরং হরমুজ প্রণালী ঘিরে পাল্টাপাল্টি সামরিক অবস্থান এবং ট্রাম্পের ‘বোমা ফেলার’ হুঁশিয়ারি নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজাচ্ছে।
রোববার রবিবার বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইরান এই প্রণালীতে ফরাসি ও ব্রিটিশ জাহাজে গুলি চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়াব না। সেক্ষেত্রে অবরোধ চলবে এবং দুর্ভাগ্যবশত আমাদের আবারও বোমা ফেলা শুরু করতে হবে। ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন অবরোধের কারণে ইরান প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার প্রতিনিধি দল সোমবার সন্ধ্যায় পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাবে। অন্যদিকে, ইরানের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবাফের নেতৃত্বে একটি ইরানি প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার পাকিস্তানে পৌঁছাবে। ইরান আশা করছে, বুধবার যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর একটি প্রতীকী ঘোষণা আসতে পারে।
এমনকি পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে দুই দেশের প্রেসিডেন্টদের উপস্থিতিতে একটি ‘ইসলামাবাদ ঘোষণা’ সই হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না তেহরান। তবে, হোয়াইট হাউস বা তেহরান থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
আলোচনার টেবিলে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে তার পারমাণবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার কোনো অধিকার ট্রাম্পের নেই। গত জুনে মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ইরান এখনো তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত ত্যাগ করার দাবি অস্বীকার করে আসছে। কলিবাফের মতে, গত সপ্তাহের আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও ‘মৌলিক কিছু বিষয়ে’ এখনো ব্যাপক অমিল রয়ে গেছে।
ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ইরানকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, আমরা একটি অত্যন্ত ন্যায়সঙ্গত চুক্তির প্রস্তাব দিচ্ছি। যদি তারা এটি গ্রহণ না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সেতু ধ্বংস করে দেয়াটা হবে সম্মানের বিষয়। গত ৪৭ বছর ধরে যা করা উচিত ছিলো, এবার তা করার সময় এসেছে। আমরা আর ভালো সেজে বসে থাকতে পারবো না।
আগামী ৭২ ঘণ্টা নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্য কি শান্তির পথে হাঁটবে নাকি এক প্রলয়ঙ্কারী ধ্বংসযজ্ঞের মুখোমুখি হবে। একদিকে যেমন ইসলামাবাদে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীতে রণসজ্জা এবং ট্রাম্পের ‘ইরান কিলিং মেশিন’ বন্ধ করার হুমকি বিশ্ববাসীকে চরম উৎকণ্ঠায় রেখেছে। তথ্যসূত্র: সিএনএন-আল জাজিরা-বিবিসি
কালের সমাজ/এসআর

