ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

রামিসার বোনের সাক্ষ্য ‘ক্লোজড ডোর’ নেওয়ার আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক | জুন ২, ২০২৬, ০১:০৬ পিএম রামিসার বোনের সাক্ষ্য ‘ক্লোজড ডোর’ নেওয়ার আবেদন

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় নিহত শিশুটির বাবা ও মায়ের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে রামিসার বড় বোন রাইসা আক্তারের সাক্ষ্য ‘ক্লোজড ডোর’ বা ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে নেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিট থেকে ১১টা ২৬ মিনিট পর্যন্ত ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। বিচারক মাসরুর সালেকীন এ সময় আদালত পরিচালনা করেন। শুনানির সময় মামলার প্রধান দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়।

শুনানির শুরুতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু আসামির নিরাপত্তা ও বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে আবেদন জানান। তিনি দাবি করেন, আসামি যাতে আদালত কক্ষে বা বাইরে গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য দিতে না পারে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আদালত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

এরপর প্রথম সাক্ষী হিসেবে মামলার বাদী ও নিহত শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা সাক্ষ্য দেন। অসুস্থ থাকায় তাকে চেয়ারে বসে জবানবন্দি দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। তিনি ঘটনার দিনের সময়ক্রম তুলে ধরে জানান, অফিসে পৌঁছানোর পর স্ত্রীর ফোন পেয়ে দ্রুত বাসায় ফিরে ঘটনাস্থলে প্রবেশ করে তিনি রক্তাক্ত অবস্থার চিত্র দেখতে পান। পরে খাটের নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে তিনি আদালতে জানান।

পরবর্তীতে দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে শিশুটির মা পারভীন আক্তার সাক্ষ্য দেন। তিনি ঘটনার দিনের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বর্ণনা করেন এবং জানান, চিৎকার শোনার পর তিনি খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে সন্তানের মরদেহ দেখতে পান।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তৃতীয় সাক্ষী ও নিহত শিশুটির বড় বোন রাইসা আক্তারের বয়স এবং মানসিক অবস্থা বিবেচনায় তার সাক্ষ্য ‘ক্যামেরা ট্রায়াল’ বা ক্লোজড ডোর পদ্ধতিতে নেওয়ার আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষ। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, গত ১ জুন মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন আদালত। এর আগে ১৯ মে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার দিনই তার বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোট ১৭ জনকে সাক্ষী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

 

কালের সমাজ/ওজি

Link copied!