বদহজম মানেই যে লিভারের রোগ হবে, তা নয়। আর যদি তা ক্রনিক সমস্যায় পৌঁছে যায়, তা হলে তো সর্বনাশ। ঘন ঘন অম্বল, কিছু খেলেই বমি, গলা-বুক জ্বালা, মাঝেমধ্যে জন্ডিসের মতো উপসর্গ দেখা দেওয়া মোটেই সাধারণ সমস্যা নয়। পেটের রোগ ভেবে এড়িয়ে গেলেই বিপদ। এই ভুলটাই অধিকাংশ মানুষজন করছেন বলেই দাবি গবেষকদের। হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল ও দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্থের গবেষণাপত্রে লেখা হয়েছে, অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের কিছু ব্যতিক্রমী লক্ষণ দেখা দিচ্ছে, যেগুলিকে রোজের সমস্যা ভেবেই ভ্রম হচ্ছে।
অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রূপ হল ‘প্যানক্রিয়াটিক ডাক্টাল অ্যাডিনোকার্সিনোমা’। এই ক্যানসার ছড়াতে শুরু করলে তাকে নিয়ন্ত্রণে আনা প্রায় অসম্ভব। গবেষকেরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, কিছু বিশেষ প্রোটিনের আধিক্য হলে অগ্ন্যাশয়ের কোষগুলির অস্বাভাবিক ও অনিয়মিত বিভাজন শুরু হয়ে যায়। শুধু খাওয়াদাওয়ায় অনিয়ম বা অত্যধিক নেশা করা এর জন্য দায়ী না-ও হতে পারে। জিনগত কারণেই এমন মিউটেশন (রাসায়নিক বদল) আসে, যা খুব দ্রুত ছড়াতে শুরু করে। আর সে কারণেই এমন কিছু উপসর্গ দেখা দিতে থাকে, যা ক্যানসারের লক্ষণ বলে মনেই হয় না।
কী কী সেই লক্ষণ?
আচমকা ওজন কমতে শুরু করে
খাওয়াদাওয়ায় অনিয়ম করছেন না, অথচ হঠাৎ করে ওজন কমতে শুরু করবে। বিশেষ করে শরীরের পেশির ক্ষয় হতে থাকবে। এতে হাঁটাচলা, কাজকর্ম করতে সমস্যা হবে। ডায়াবিটিসের রোগীদের ক্ষেত্রে এই বদলটা সবচেয়ে আগে ধরা পড়ে। ওষুধ খাওয়া বা ইনসুলিন নেওয়ার পরেও রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে না এবং ওজনও কমতে শুরু করে।
পিঠে যন্ত্রণা
পিঠ বা কোমরের পিছন দিকে যন্ত্রণা হলে পেশির ব্যথা ভেবে ভুল করেন অনেকে। কেউ আবার কিডনির সমস্যাও ভেবে ফেলেন। যদি দেখা যায়, পিঠের ব্যথা উত্তরোত্তর বাড়ছে, বেশি ক্ষণ বসে থাকতেও সমস্যা হচ্ছে, তা হলে সতর্ক হতে হবে। ক্যানসার কোষের বাড়বৃদ্ধি শুরু হলে তার প্রভাব পড়ে স্নায়ুর উপরেও। ফলে ওই অংশের স্নায়ুর কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। যে কারণে ব্যথাবেদনা শুরু হয়। শুয়ে থাকার সময়ে ব্যথা আরও বাড়ে।
ঘন ঘন জন্ডিস
ঘন ঘন জন্ডিসে আক্রান্ত হলে কিন্তু সেটি মোটেই ভাল লক্ষণ নয়। এই ক্যানসারে আক্রান্ত হলে প্রাথমিক পর্যায় জন্ডিসের লক্ষণ দেখা দেয়। তবে অনেকে হেপাটাইটিস ভেবে ভুল করে ফেলেন। হেপাটাইটিসের ক্ষেত্রে সব সময়ে বমি বমি ভাব থাকবে, খিদে কমে যাবে। আর অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের ক্ষেত্রে পেটে অসহ্য ব্যথা শুরু হবে, ওজন কমতে থাকবে, গাঢ় রঙের প্রস্রাব হবে, মলের সঙ্গে রক্ত বার হতে পারে।
হঠাৎ করেই সুগার বাড়বে
ডায়াবিটিস ছিল না বা বাড়িতে কারও সুগার নেই, অথচ হঠাৎ করে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে শুরু করবে। ওষুধ খেয়ে বা ইনসুলিনেও সুগার নিয়ন্ত্রণে আসবে না। এমন লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে।
শরীরের নানা জায়গায় রক্ত জমাট বাঁধবে
কারণ ছাড়াই শরীরের একাধিক জায়গায় কালশিটে পড়বে, রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। চোট-আঘাতের ফলে কিংবা অন্য একাধিক কারণে শিরায় রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কোনও আঘাত ছাড়াই রক্ত জমাট বাঁধা বা ডিপ ভেন থ্রম্বোসিসের লক্ষণ দেখা দেবে। পা ফুলে যাওয়া, পায়ের শিরায় রক্ত জমাট বেঁধে কালো ছোপ তৈরি হওয়া, হাঁটতে হাঁটতে বসে পড়া, হঠাৎ অসহ্য যন্ত্রণা- এই ধরনের লক্ষণ দেখলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
কালের সমাজ/এসআর


আপনার মতামত লিখুন :