ঢাকা সোমবার, ০১ জুন, ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ঈদের ছুটিতে

সড়কে ঝরল ৪৪ প্রাণ, আহত শতাধিক

বিশেষ প্রতিনিধি | জুন ১, ২০২৬, ০৭:৪১ এএম সড়কে ঝরল ৪৪ প্রাণ, আহত শতাধিক

 ঈদুল আজহার ছুটিতে দেশের বিভিন্ন জেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৪৪ জন প্রাণহানি  এবং প্রায় ১০০ জন আহত হবার খবর পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া যান চলাচল এবং ট্রাফিক আইন না মানার কারণে ঈদযাত্রায় ও ছুটিতে দেশজুড়ে এসব মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটে।ই্লেোগ্য জেলার ম্যে রয়েছে-চট্টগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেট, কুষ্টিয়া, গোপালগঞ্জ, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, চাঁদপুর, বগুড়া, ফরিদপুর, বরিশাল ও লালমনিরহাট।  

চট্টগ্রামে ঈদের দিন কর্ণফুলীর শিকলবাহায় বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হন। এছাড়া রাঙাপানি চা-বাগান এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই তরুণের মৃত্যু হয়। সিরাজগঞ্জে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাস সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দিলে চালকসহ চারজন নিহত হন।

নেত্রকোনার চল্লিশা বাইপাস মোড়ে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় একই পরিবারের তিন সদস্যসহ চারজন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে ছিলেন মা ও তার দুই মেয়ে। আহত হন পরিবারের কর্তা আইনুল হক। দুর্ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়রা মহাসড়ক অবরোধ করলে প্রশাসন সেখানে গোলচত্বর ও স্পিড ব্রেকার নির্মাণের আশ্বাস দেয়। একই জেলায় মোটরসাইকেল খাদে পড়ে আরও দুই যুবকের মৃত্যু হয়।

সিলেটের ওসমানীনগরে দুটি বাসের সংঘর্ষে এক বাসের চালক ও হেলপার নিহত হন। কুষ্টিয়ার মিরপুরে প্রশিক্ষণার্থী সেনাসদস্য বহনকারী বাস ও যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত এবং অর্ধশতাধিক আহত হন।

গোপালগঞ্জে ঈদের দিন বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ ছয়জন নিহত এবং ২৫ জন আহত হন। এছাড়া একই জেলায় পিকআপ ভ্যান ও প্রাইভেট কারের সংঘর্ষে আরও ২৬ জন আহত হয়েছেন। গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে এক নারী নিহত ও অন্তত ১০ জন আহত হন।

দিনাজপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে অটোরিকশার ধাক্কায় চার বছরের দুই শিশুর মৃত্যু হয় এবং তাদের দুই মা গুরুতর আহত হন। জেলার চিরিরবন্দরে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। নবাবগঞ্জেও বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে এক নারী প্রাণ হারান।

চাঁদপুরে ট্রাকের ধাক্কায় এসএসসি পরীক্ষার্থী মো. জোহা নিহত হন। পৃথক ঘটনায় হাজীগঞ্জে বাসচাপায় হাসপাতালের এক দারোয়ানের মৃত্যু হয়। বগুড়ায় মোটরসাইকেলে ট্রাকের ধাক্কায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম প্রাণ হারান।

ফরিদপুরে ঈদের আগের দিন থেকে বিভিন্ন স্থানে পৃথক ছয়টি দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনই তরুণ। অধিকাংশ দুর্ঘটনাই মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট। এছাড়া নগরকান্দায় যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২৫ জন আহত হন।

বরিশালে ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে এক সপ্তাহে পাঁচটি দুর্ঘটনায় চারজন নিহত ও নয়জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের মা, বাবা ও শিশুকন্যা রয়েছেন। অপর ঘটনায় বাসের ধাক্কায় এক মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু হয়।

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে তানিয়া নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়। আহত হন তার দুলাভাই, যিনি পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত।

ঈদের আনন্দঘন সময়ে দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে ঘটে যাওয়া এসব দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, চালকদের অসতর্কতা এবং মহাসড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণেই প্রাণহানির এই মিছিল থামছে না। ঈদযাত্রায় নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

কালের সমাজ/এএইচবি

Link copied!